মৃত__ভার্সিটি (পর্ব-০২)
গাড়ি চলছে আপন গতিতে।সবাই গল্প করছে সারা বাদে।সারার পুরো শরীর ঘামিয়ে চলছে।ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে সারা।সারাকে ঘামতে দেখে নোহা বলে উঠলো,
-"সমস্যা কি সারা?"
-"কিছু না।"__সারা ভীতু কন্ঠে বললো।
-"কিছু না হলে এভাবে চুপচাপ বসে আছিস কেন?"__তীর বললো।
-"এমনি।"__সারা শুকনো ঢোক গিলে জবাব দিল।
তাদের তিনজনের কথার মাঝে হঠাৎ তিয়াস চিৎকার করে বলে উঠলো,
-"এই গাড়ি থামা।গাড়ি থামা।একটা মহিলা রাস্তা পার হচ্ছে।"
-"এত রাতে কোনো মহিলা রাস্তা পার হচ্ছে।"__তিয়াসের কথায় জীবন অবাক হয়ে বললো।
বলে জীবন সামনে তাকাতেই ভয় পেল।তিয়াসের কথায় সবাই সামনে তাকালো।সারা তো ভয়ে কাঁপা-কাঁপি শুরু করে দিল এ কথা শুনে
মৃন্ময় গাড়ি থামালো মহিলাটির ঠিক সামনেই।অদ্ভুত দেখতে একজন বৃদ্ধ মহিলা।মহিলাটির সাদা ধবধবে কেশরাশি গুলো মাটি ছুঁই ছুঁই।মুখের চামড়া কুঁচকে আছে।চোখ গুলো সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক ছোট ছোট।চোখের নিচে কালি জমে আছে।হাতে একটা ছড়ি।মহিলাটিকে দেখে সবাই বেশ ভয় পেয়ে গেল।সারা কাঁপতে কাঁপতে আওড়াল,
-"কি ভয়ানক লাগছে বুড়িটাকে।"
-"এদিকে আসছে মনে হয়।আমার না খুব ভয় লাগছে মৃন্ময়।"__তীর ভীতু কন্ঠে বললো।
-"ভয় পাস না তীর।দেখ না কি হয়।"__মৃন্ময় জবাব দিল।
বৃদ্ধ মহিলাটি ছড়িটা নিয়ে ধীর গতিতে হাঁটতে হাঁটতে গাড়ির জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো।সবাই পেয়ে গেল মহিলাটিকে কাছে আসতে দেখে।সারা তিয়াসের পিছনে মুখ লুকিয়ে ফেললো।মৃন্ময় দ্রুত গাড়ির জানালার কাঁচ বন্ধ করে দিল।কিন্তু জানালার কাঁচ আবার নিজে নিজে খুলে গেল।এটা দেখে সবাই আরো ভয় পেয়ে গেল।আচমকা শোনা গেল মহিলাটির গা হিম করা কন্ঠস্বর।
-"তোমরা কি সবাই ভুল করে এদিকে চলে এসেছ বাচারা?"
মৃন্ময় কিছুটা সাহস জুগিয়ে বললো,
-"না বুড়িমা।আমরা ভার্সিটির দিকটায় যাচ্ছি।"
-"কি বললে তুমি?"__মহিলাটি গম্ভীর গলায় বললো।
-"ভ ,,,, ভার্সিটি যাচ্ছি।"__মৃন্ময় ভয়ার্ত গলায় আওড়াল।কথাটি শোনার পরপরই বৃদ্ধা বলে উঠলো,
-"এখানে কোনো ভার্সিটি নেই সবাই ফিরে যাও।"
-"কি বলছেন এসব আপনি বুড়ি মা।এই দেখুন আমাদের ভর্তির ফরম।এখানে তো সবকিছুই...
আরো কিছুর বলার আগেই মৃন্ময় সামনে তাকাতেই দেখে মহিলাটি উধাও।মহিলাটাকে আশেপাশে না দেহে নোহা ভয়ার্ত গলায় বলে উঠলো,
-"মহিলাটা কোথায় গেল?"
-"জানিনা।"__তিয়াস বললো।
-"আমার না কেমন লাগছে রে জীবন।"__তীর।
-"কিন্তু হুট করে কোথায় চলে গেলেন উনি?"__মৃন্ময়।
-"আচ্ছা চল আমরা গিয়ে দেখি কোনো ভার্সিটি আছে কিনা।না ফেলে চলে আসবো।হয়তো কেউ টাকা খাওয়ার জন্য আমাদের বোকা বানিয়েছে।"__তীর।
-"কিন্তু ফোনে তো বললো প্রাইভেট ভার্সিটি হলে কি হয়েছে।অনেক ভালো পড়াশোনা হয় ওখানে।"__নোহা।
-"গিয়েই দেখে আসা যাক।মৃন্ময় গাড়ি স্টার্ট দে।"__তিয়াস।
-"আমার না কেন জানি ভয় লাগছে।মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে।"__মৃন্ময়।
-"আমারও।"__সারা কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো।
-"সাট আপ সারা।এমনি সবাই ভয় পেয়ে আছে।তোর কথা শুনে সবাই আরো বেশি ঘাবড়ে যাবে।"__জীবনের ধমকে কেউ আর কথা বাড়ালো না।সবাই চুপচাপ বসে রইলো।
..........
আধা ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর অবশেষে গাড়ি এসে থামলো ভার্সিটির সম্মুখে।নোহা দেখেই বলে উঠলো,
-"এই ওই বুড়িটা তো বললো কোনো ভার্সিটি নেই।কিন্তু আমরা তো ভার্সিটির সামনেই দাঁড়িয়ে আছি।"
-"আরে হয়তো মজা করেছে মহিলাটি আমাদের সাথে।"__জীবন।
-"আমারও তাই মনে হচ্ছে।"__তিয়াস।
এদিকে সারা ভয়ে ভয়ে গাড়ি থেকে নামলো সবার সাথে।ভার্সিটির গেইটের সামনে একজন মধ্যবয়স্ক লোক দাঁড়িয়ে আছে।লোকটার মাথায় টুপি দেওয়া মুখে মাস্ক এইজন্য ভালোভাবে মুখ দেখা যাচ্ছে না।সবাই লোকটির সামনে এসে দাঁড়ালো।পর পর মৃন্ময় লোকটিকে বলে উঠলো,
-"আপনি ভার্সিটির গেইটের পাহারাদার?"
-"হ্যাঁ।"
লোকটির কন্ঠটি অদ্ভুত লাগলো সবার।কিন্তু কেউ তেমন পাত্তা দিল না মৃন্ময় আর সারা ছাড়া। দু'জন কিছুটা ভয় পেয়ে গেল লোকটার কন্ঠস্বর শুনে।আচমকা লোকটি মোটা কন্ঠস্বরে বললো,
-"ভেতরে যাও।"
বলে লোকটি গেইট ধরলো।সবাই এক এক করে ভিতরে প্রবেশ করলো।লোকটি বাকাঁ হাসি দিল সবাইকে ভিতরে যেতে দেখে।তারপর পাহারাদার গেট বন্ধ করে দিল।সবাই সামনে এগোচ্ছে। মৃন্ময় আর সারা হাঁটা থামিয়ে পেছনে তাকালো।লোকটি তাদের দিকে তাকিয়ে হাসলো কেবল।লোকটার হাসি দেখে মনে হলো যেন কোনো মৃত মানুষের হাসি।তারা দু'জন ভয় পেয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে তাদের সাথে চলে গেল ভিতরে।
ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলো পাঁচ জন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফুলের ডালা নিয়ে।ব্যাপারটা সবার কাছে অদ্ভুত লাগলো।যেন বিয়ে বাড়িতে আসলো এমন একটা অবস্থা।পরক্ষণে সবাই নিজেদের সামলে নিল।পাঁচ জন মেয়ে ডালা থেকে গোলাপ ফুলের পাপড়ি নিয়ে তাদের দিকে ছুঁড়ে মারছে।তারা সবাই হাসলো তাদের আপ্যায়নে।এরপর একটা মধ্যবয়স্ক মহিলা তাদের সবাইকে আলাদা আলাদা রুম দেখিয়ে দিল।সবাই খুব খুশি হলো আলাদা রুম পেয়ে সারা ছাড়া।সারা তো একা কিছুতেই থাকতে চাইছে না।নোহা আর তীর জোরাজোরি করে রাজি করালো তাকে।সবাই যে যার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার একসাথে হলো।
হলরুমে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।সবাই এখন সেখানেই উপস্থিত রয়েছে।বড় বড় টেবিলের সাথে নিচু বেঞ্চ দেওয়া।সবাই একটা টেবিলে এসে বসলো।
জীবন জুসের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে হাসতে হাসতে বললো,
-"এটাকে কেউ ভার্সিটি নয় রে রাজমহল বলবে রাজমহল।"
-"একদম ঠিক।"__নোহা তাল মেলালো।
এরপর আসলো একজন ওয়েটার ডিশ ভর্তি খাবার নিয়ে।ওয়েটারকে বেশ অদ্ভুত দেখাচ্ছে।চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে,চোখের নিচটায় কালি জমে আছে আর মুখটা রক্তশূণ্য।সারাকে ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে।ওয়েটার দিকে তাকিয়ে সারা ভাবে,
-"রাস্তায় থাকা মেয়েটাও দেখতে হুবহু এমন ছিল। এখানে যাকে ই দেখছি সবার চোখের নিচে কালি জমে আছে।ব্যাপারটা তো ভারি অদ্ভুত লাগছে।"
ওয়েটার সবার জন্য গরম ভাত আর গরুর গোশত নিয়ে আসলো।সবার খাবার সবার সামনে দিয়ে দিল ওয়েটার।মৃন্ময়ের দিকে খাবারের প্লেট দিতে গিয়ে প্লেটটি পড়ে যেতে নিলে ওয়েটার সহ মৃন্ময়ও প্লেটটি ধরলো।মৃন্ময়ের হাত ওয়েটারের হাতের সাথে লাগতেই মৃন্ময় চমকে ওঠলো।মৃন্ময় এর মন বলে উঠলো,
-"আশ্চর্য ওয়েটারের হাত এত ঠান্ডা কেন?"
ওয়েটার দ্রুত হাতটি সরিয়ে নিল মৃন্ময়ের কাছ থেকে। মৃন্ময় কিছুটা ভয় পেয়ে গেল ওয়েটারকে এভাবে হাত সরিয়ে নিতে দেখে।ওয়েটার রাগী দৃষ্টিতে তাকালো মৃন্ময়ের দিকে।মৃন্ময় ভয় পেয়ে গেল ওয়েটারের চোখের দিকে তাকিয়ে।ওয়েটারের চোখ দু'টো হঠাৎ করে ই লাল বর্ণ হয়ে গেল।চোখ দু'টো অনেক ভয়ানক দেখাচ্ছে।মৃন্ময় কিছু বলার আগেই পিছন থেকে ওয়েটারকে কেউ ডাক দিল।।।।
