ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২৮
September 29, 2024
0
পেছন থেকে একটা ছেলে এসে আমার সামনের ছেলেটা কে সরিয়ে বলে, "এই এই যেতে দে আফা কে। আফা যান আপনি! ছেলেটার দিকে একবার তাকিয়ে সামনে হাঁটা ধরতে যাবো তখন মনে হলো একটা ছেলে আমার উড়না ধরে টানল। আমি ভয়ে স্থির হয়ে গেলাম। পিছনে ঘুরে বলি, "উড়না ছাড়ুন। "ধরতেই তো পারলাম না ছাড়বো কিভাবে বলো? "দেখুন আমি কিন্তু চিৎকার করবো। "করো! আমি তো মানা করি না। "মাইক লাগলে বলো এনে দেবো। বলেই সবগুলো ছেলে জোের জোরে হাসতে লাগলো। হঠাৎ মনে হলো ছেলেটা আমার উড়না ধরে টানছে। আমি উড়নাটাকে শক্ত করে ধরে টান দিলাম। অতঃপর ছুটতে লাগলাম। তারাও দৌড়াচ্ছে আমার পিছু পিছু। সামনে তাকিয়ে দেখি যা ভেবেছি তাই, পুরো রাস্তা খালি। আমি তবুও নিজের সর্বস্ব দিয়ে দৌড়াতে থাকি।হুট করেই সামনে কিছু দেখতে পাই। একটা আইসক্রিম'র দোকান খোলা। তার সামনে একটা গাড়ি ও আছে। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে তাকিয়ে দেখি ছেলে গুলো কে আর দেখা যাচ্ছে না। থেমে যাই সেই আইসক্রিম দোকানের সামনে। দোকানের বাহিরে আলো দিয়ে ডেকোরেট করা, আলো জ্বলছে। দোকান টা হয়তো নতুন। আমি কারো আসার শব্দ পেলাম। ভাবলাম সামনে এখন দৌড়িয়ে লাভ নেই। সরু গলি আবার পড়বে তখন ছেলে গুলো ধরে ফেললে। এখন'ই কিছু করতে হবে। আমি এসে চট করে গাড়ির এপাশে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আর উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলাম। ছেলে গুলো এসে পড়েছে। আমার ধারনা ছিল তারা ভাববে হয়তো আমি আইসক্রিম'র দোকানের ভিতর চলে যাবো। একজন সেটা বলেও উঠল। কিন্তু আরেকজন বলল, "দোকানের ভিতর গেলে এতোক্ষণে মানুষ এসে বাইরে ভীড় জমিয়ে দেবার কথা। তেমন কিছু হয় নি। তার মানে সে এখানেই আছে। খুঁজো তাকে। তার কথা মতো কিছু ছেলে সামনে আগাতে লাগল। বাকি ছেলে গুলো এপাশে ওপাশে খুঁজছে। ছেলে গুলো গাড়ির চারপাশে আসছে। আমি গাড়িটার এপাশ থেকে ওপাশে যেতে লাগলাম।হঠাৎ মনে হলো আমার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। আমি ভয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলাম। শুকনো ঢোক গিলে পেছনে ফিরলাম। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। মাথা উঁচু করে উপরের দিকে তাকাতেই থমকে গেলাম। এ তো আহিয়ান! সে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি তার থেকে একটু ঝুঁকে পেছনে তাকালাম। দেখি ছেলে গুলো দাঁড়িয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। তাদের দেখে ভয়ে আমি এক পা পিছিয়ে গেলাম। আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকাল। অতঃপর পেছনে তাকাল। ছেলে গুলো তাকে দেখে জড়ো হলো। হঠাৎ উনি আমার হাত ধরল। অতঃপর গাড়ির দরজা টা খুলে বলল, "গাড়িতে বসো! আমি হা হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আবারো বলল, "এতো দেরি হলো কেন তোমার, কখন থেকে অপেক্ষা করছি তোমার জানো! দ্রুত বসো বাসায় যেতে হবে।বলেই আমাকে জোর করে গাড়িতে বসানোর চেষ্টা করল। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখছি ছেলে গুলো চলে যাচ্ছে। আমি উনার দিকে তাকালাম। উনি চোঁখের ইশারায় আমাকে ভিতরে বসতে বলল। আমি ভিতরে চুপচাপ বসে পড়লাম। খুব শক্ত করে সিট আঁকড়ে ধরে বসে আছি। পুরো শরীর কাঁপছে আমার, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। উনি এসে আমার পাশের সিট মানে ড্রাইভিং সিট এ বসলেন। অতঃপর নিজের সিটবেল বেঁধে দিল আমার দিকে পানির বোতল দিলেন। আমি উনার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে বোতল টা নিতে গেলাম। হুট করে উনি বোতল টা নিজের কাছে নিয়ে পানি খেয়ে আমার দিকে ধরলেন। আমি কিছুটা অবাক হলাম। অতঃপর পানি নিয়ে খেতে লাগলাম। হঠাৎ উনি বলে উঠলেন, "এরা কারা চিনো তুমি! একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। তার আওয়াজে লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করি, "কককি? উনি আমার হাত থেকে বোতল টা নিয়ে বললেন, "বললাম এই ছেলে গুলো কে চিনো"না "এতো রাতে এই নির্জন গলিতে কি করছো তাও একা একা! "ককিছু না! উনি আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে সামনের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন, "সিট বেল বাঁধ! "হুম! "বলছি সিট বেল্ট বাঁধ, সিট বেল্ট। আমি সিটের দু পাশে খোঁজা খুঁজি করতে থাকি। উনি আমাকে ডেকে নিজের সিট বেল্ট খুলে দেখিয়ে বলেন, "তোমার সিটের দু পাশে এমন বেল্ট আছে, এগুলো এভাবে আটকিয়ে দেও বুঝলে। আমি উনার টা দেখে নিজের সিট বেল্ট বাঁধলাম। উনি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বললেন, "সামনে তোমার বাসা তো (আমি মাথা নাড়লাম)
Tags

