Type Here to Get Search Results !

ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২৯


 (আমি মাথা নাড়লাম) উনি গাড়ি চালাতে শুরু করলেন। আমি এখনো নিশ্চুপ, গম্ভীর। ভয় এখনো কাটে নি আমার। সবকিছু দুঃস্বপ্ন'র মতো লাগছে আমার কাছে। শুধু ভাবছি যদি আজ কিছু হয়ে যেত। তারা যদি উল্টোপাল্টা কিছু করে আমাকে মেরে ফেলে রেখে যেত তখন কি হতো। আমাকে তো এখানকার কেউই চিনে না। পুলিশের কাছে বেওয়ারিশ লাশ নামে পড়ে থাকতো। একটা কেস হতো, ভাগ্য ভালো হলো খোঁজ পাওয়া যেত নাহলে তারা ফাইল বন্ধ করে দিত। ক্লোজ হয়ে যেত আমার চাপ্টার! এসব ভাবতে ভাবতে বার বার আমার শরীর শিউরে উঠছে, কি না কি হতে পারতো। হঠাৎ উনার গলায় আওয়াজ পেলাম। হ্যাঁ উনি ডেকেছেন আমায়। আমি উনার দিকে ফিরলাম। চোখ সামনে রেখেই উনি বললেন, "নিহা! "হুম। "তোমার নাম নিহা তো ঠিক বললাম। "হুম।"তোমার নাম নিহা তো ঠিক বললাম। "হুম। "আইসক্রিম খাবে। "না। উনি একহাত দিয়ে পেছনের সিট থেকে একটা আইসক্রিম বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন, "খাও আজ এই আইসক্রিম'র জন্য'ই বেঁচে গেছো তুমি। আমি তো শুধু ইয়ান'র জন্য আইসক্রিম কিনতে এসেছিলাম। হঠাৎ করেই ফোন করে বলল আইসক্রিম নিয়ে যেতে। আর দোকানটাও সামনে পরে গেল তাই গাড়ি থামিয়ে আইসক্রিম কিনতে নামলাম। না হলে কি হতো! "(আমি চুপ) "তুমি শুনছো তো আমার কথা। "উহু! "এভাবে কখনো একা বের হয়ো না। এসব এলাকায় অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে। "হুম"হুম "আইসক্রিম খাও, তোমার মাথা ঠান্ডা হবে তাহলে। নাকি আইসক্রিম খেয়ে দেখিয়ে দিতে হবে। তুমি তো আবার চেক করা ছাড়া খাও না। কিন্তু দেখ এটা প্যাকেট করা তাই এতো চিন্তা করো না খেয়ে নাও! আমি তার কথায় শুধু ঢোক গিলছি। এখন কিছু আমার গলা দিয়ে কিছু নামবে বলে মনে হচ্ছে না। ভয় যেন আঁকড়ে ধরে আছে আমায়। হঠাৎ আবার আহিয়ান বলে উঠে, "ওহ তোমাকে তো বলা হলো না ইয়ান কে? সে হলো আমার বড় বোনের ছেলে। অনেক ছোট আর কিউট বুঝলে তো। "হুম! "তুমি কিন্তু আইসক্রিম টা খাচ্ছ না। এটা পড়ে গলে যাবে তখন খেতে ভালো লাগবে না। এটা আমি না ইয়ান বলে! "হুম "খাও এখন!আমি আইসক্রিম টা খুলে দু বার মুখে দিলাম। বাটি আইসক্রিম এটা। উনি কিছুক্ষণ পর পর কিছু বলছে। ভিন্ন ভিন্ন কথা, যা এইরকম পরিস্থিতে মানায় না। খানিকটা অস্বাভাবিক। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে উনি বেশি কথা বলছে। হ্যাঁ তাই! কখনো এতো কথা বলতে উনাকে শুনি নি আমি। উনি কি তাহলে আমার ভয় কমানোর জন্য এতো কথা বলছে। আমার মন ঘুরানোর চেষ্টা করছে। আমাকে স্বাভাবিক করার জন্য'ই হয়তো বলছে এসব। হুট করেই আমি বলে উঠি, "গাড়ি থামান। উনি গাড়ি থামিয়ে আমাকে বললেন, "এখানে তোমার বাসা! "হ্যাঁ আরেকটু ভিতরে। সরু গলিটার পরে কিন্তু সেখানে আপনার গাড়ি যাবে না। আপনি এখানেই থামান। "সরু গলিটার পর পর'ই কি তোমার বাসা। "না কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে। "ওহ! "হুম।অতঃপর আমি নেমে গেলাম। উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে গাড়ির দরজা আটকিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম। তখন হঠাৎ উনি আমাকে নাম ধরে ডাকলেন, "নিহা। "হুম। "দাঁড়াও! বলেই গাড়ি থেকে নামলেন। অতঃপর আমার সাথে দাঁড়িয়ে বললেন, "চলো! "আমি যেতে পারবো। উনি আমার কথার অপেক্ষা না করে হাঁটতে লাগলেন। আমি হাঁটছি উনার পাশে। খুটখুটে অন্ধকার চারদিকে। উনি ফোনের আলো জ্বালিয়ে হাঁটতে লাগলেন। আমি উনার থেকে দূরে তবে সাথে সাথে হাঁটছি। উনি বলে উঠে, "তুমি কি প্রতিদিন এখান দিয়ে যাও "হুম।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.