Type Here to Get Search Results !

ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২, পর্ব ২৭

"না এখনো আছে, তোমার কপাল তো গরম। "এরকম সবার'ই থাকে। "আমার ও থাকবে বুঝি! "হুম। এখন পড়তে বসো! অতঃপর অর্ণ পড়তে বসল। বলা বাহুল্য খুব ভালোই পড়ল সে। তাহলে তার মা কেন বলে সে পড়ে না। নাকি আজ প্রথম দিন বলে আমার কাছে খুব ভালো পড়েছে। আস্তে আস্তে হয়তো আর পড়বে না হতেও পারে। অর্ণ কে পড়িয়ে বাইরে এসে দেখি পুরো রাস্তা ফাঁকা। দু একজন মানুষজন আছে, আর আছে কিছু ল্যাম্পপোস্ট। সেগুলোতে নিভি নিভি আলো জ্বলছে। আমি ব্যাগ টা শক্ত করে ধরে হেটে চলছি। সব কিছু বেশ শান্ত, বেশ নিরব। একটা মেইন রোড পেরিয়ে সরু গলি, সেটা পেরিয়ে আরেকটা মেইন'র এ এসে পৌঁছানোর পর আরেকটা সরু গলি। অতঃপর সেটা দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা মসজিদ। মসজিদ থেকে আরো ৫ মিনিট হাঁটার পর বাসায় এলাম। বাসায় এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। কিছু করতে মন চাইছে না এখন আর। কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানি না।রাত ১২ টায় মিতু আপু জাগালো আমায়। জোর করে কিছু খাইয়ে দিল আমায়। অতঃপর ঔষধ খাইয়ে দিয়ে বলল, "ঘুমিয়ে পড়! কিন্তু আমার আর সেই রাতে ঘুম এলো না। কি মনে করে যেন ছাদে চলে এলাম। এতো রাতে ছাদে আসে টা হয়তো ঠিক না কিন্তু আমি এলাম। কেন জানি মন চাইলো আসতে। ছাদের গা ঘেঁষে একটা গাছ আছে। অন্ধকারে দূর থেকে দেখলে বেশ ভয়ংকর লাগে। মনে হয় যেন কোন দৈত্য দানব আমার দিকে ঝুঁকে আছে!বেশ কয়কদিন হলো নিতি ওরা এখন আর আমাকে কিছু বলছে না। যাক বাবা বেঁচে গেছি। কিছু না বলাটাই স্বাভাবিক কারন আমি এখন আর তাদের কারো সাথে কথা বলি না। বিশেষ নজর রাখি যেখানে তারা আছে সেখানে আমার ছায়া যাতে না পরে। মিতু আপু আর মুন্নি আপুর মাঝে ইদানিং বেশ দ্বন্দ্ব চলছে বলে আমার ধারণা। কয়েকদিন ধরেই মিতু আপু বাসায় আগে চলে আসেন। অতঃপর মুন্নি আপু। তাও অনেক দেরি করে আর প্রত্যেকবার এক কথা বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি। বেশ বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু বিষয় টা কি হতে পারে কোন ছেলে। জিজ্ঞেস করেছিলাম আপু কে। সে বলল, "মুন্নি আপু নাকি কোন বাজে ছেলের খপ্পরে পড়েছে। ছেলেটা কে মিতু আপুর কাছে মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না। কিন্তু মুন্নি আপু সেটা মানতে নারাজ। এই নিয়েই দুই বোনের মাঝে বিরোধিতা। রিনু'র আম্মু বেতন দিয়েছে আজ। বাসায় গিয়ে পরিক্ষার টাকা আলাদা করে রাখতে হবে।অর্ণ নামের ছেলেটিকে যতটা দুষ্টু ভেবেছিলাম সে আসলে ততোটা নয় এটা আমার ধারানা, কারন আমার কাছে এমন কিছুই করেনি ও। আমাকে যতটুকু পড়া দেই সেটাই কমপ্লিট করে রাখে সে! এটার কারন কি? জিজ্ঞেস করতে হবে একদিন। হ্যাঁ জিজ্ঞেস না করলে জানবো কিভাবে? অর্ণ কে আজ পড়িয়ে বের হতে হতে চারদিকে খুটখুটে অন্ধকার লাগছে। আজ যেন একটু বেশিই অন্ধকার চারদিক। আমি এক পা এক পা করে হাঁটছি। কাঁধের ব্যাগ টা খুব শক্ত করে ধরে রেখেছি। মন বলছে কিছু একটা খারাপ হবে। আবার নাও হতে পারে। কিন্তু হবার সম্ভাবনা বেশি। মেইন রোড পেরিয়ে এখন সরু গলি টায় ঢুকেছি। এর প্রথমেও কোন আলো নেই আর না আছে শেষে। শুধু মাঝে একটা ল্যাম্পপোস্ট। আশপাশ বিল্ডিং ছাড়া কিছুই নেই। কোনদিন'ই এখানে মানুষের আনাগোনা দেখি না, যদি থাকে তো কুকুর আর বিড়াল। আর সেগুলোও কি ভয়ানক। কি ভয়ংকর ভাবে ডাকে কুকুর। শরীর শিউরে উঠে একদম। কিন্তু আজ! আজ মনে হচ্ছে এই গলি তে কারা আছে। ৪,৫ জন হবে। দূরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে তারা আর বিশ্রি বিশ্রি কথা বলছে।তাদের ক্রশ করেই যেতে হবে আমাকে। আমি তাদের সামনে দিয়ে যেতেই একটা ছেলে সিগারেট'র ধোঁয়া আমার মুখে দিকে মারল। আমি কাশতে কাশতে এসে ল্যাম্পপোস্ট টার সামনে দাঁড়ালাম। অতঃপর হাঁটতে লাগলাম। হঠাৎ মনে হতে লাগল তারা আমার পিছু পিছু হাঁটছে। ভয় লাগতে শুরু হলো আমার। এর সামনে একটা রাস্তা কিন্তু সেই রাস্তায় কখনো মানুষ জন থাকে। দুই পাশে খেলার মাঠ যেন গাছপালার ঝোপঝাড়ে ভর্তি। এসব কথা ভাবতেই বুক টা মোচড় দিয়ে উঠলো। আমি উড়না আর ব্যাগ টা কে শক্ত করে ধরে হাঁটতে লাগলাম। জোরে জোরে হাঁটছি, তারাও জোরে জোরে হাঁটছে। এখন তো সত্যি মনে হচ্ছে তারা আমার পিছু পিছু আসছে। আমি দ্রুত হেঁটে সরু গলি টা থেকে বার হতে যাবো তখন হুট করেই একটা ছেলে দৌড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কাঁপা কাঁপা গলায় বলি, "আমাকে যেতে দিন। "যাবেন! শক্ত গলায় বলি, "রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান!
 

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.