#তোমাকে_ঘিরে
#পর্ব_৭
ফ্রেশ হয়ে আফজা শুয়ে রেষ্ট নিচ্ছে। হঠাৎ ওর দরজায় ধাক্কা দেয় মিসেস রেহানা," এই আফজা দরজা খোল, আয়ান বাবা ফ্রেশ হবে।"
কিছুটা বিরক্ত নিয়ে উঠে বসে, দরজা খুলে দেখে বাইরে আয়ান দাঁড়িয়ে," আসতে পারি?"
হুম, আসুন।
আসলে একটু ফ্রেশ হবার ছিলো তাই আন্টি আপনার রুম দেখিয়ে দিলো।
ওহ হ্যা ভিতরে আসুন।
আয়ান ওয়াশরুমে যেতেই আফজার মা ভিতরে আসেন। বলেন," মা সুন্দর একটা কামিজ পরে বের হ তো। তোর বাবার বন্ধু আর তার ওয়াইফ তোকে দেখতে চাচ্ছে।"
আমি কেন মা? মাত্র তো অফিস থেকে আসলাম! বিরক্ত নিয়ে বলে আফজা।
দেখ তারা মেহমান তাদের তো আর বিরক্তি দেখাতে পারি না, লক্ষী মা একবারটা আয়। তোর বাবার মান সম্মানের প্রশ্ন।
আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি।
মিসেস রেহেনুমা চলে যাবার পরে আয়ান বের হয়। এসেই আফজার টাওয়াল ইউজ করে।
কি পারফিউম ইউজ করো তুমি? কি কি ব্যবহার করো লিষ্ট করে দিও তো? কিনতে তো আমাকেই হবে এখন থেকে।
কথা শুনে ভ্রু কুচকে আফজা জিজ্ঞাসা করে, " মানে কি?'
মানে? বাইরে এসো বুঝতে পারবে। বলে মুচকি হেসে আয়ান চলে যায়।
আফজা আর মাথা না ঘামিয়ে চুলটা সুন্দর করে আচড়ে টিপটপ হয়ে ড্রয়িংরুমে যেয়ে আয়ানের বাবা মাকে সালাম দেয়।
সালামের উত্তর দিয়ে খুশি হয়ে মিসেস ইসরাত ওকে তার পাশে বসায়। কিছু প্রশ্ন করে উৎফুল্ল মনে বলে উঠে," ভাই সাহেব মেয়ে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি আজকেই ওকে আমার সাথে নিয়ে যাবো। আয়ানের বাবা কাজী ডাকো এক্ষুনি।"
কথা শুনে আফজা তো থ! সে একবার মা আরেকবার বাবার মুখের দিকে তাকায়। হঠাৎ আয়ানের দিকে চোখ পড়তেই দেখে সে মিটিমিটি হাসছে আর চা খাচ্ছে। আফজার তালু গরম হয়ে যায়, বুঝতে পারে সব শয়তানির মূলে এই অসভ্য লোক।
বিনয়ের সাথে আফজা জিজ্ঞাসা করে, " আন্টি আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না আপনারা কি বলছেন?"
আফজার বাবা বললেন," মা আমি বলছি। আসলে আমারই ভুল হয়েছে তোমার সাথে আগে কথা বলে নেয়ার দরকার ছিলো। হঠাৎ করেই আমার বাল্যবন্ধু ফারহান আজকে আমাকে ফোন করে বললো আয়ান আর তুমি দুজন দুজনকে চিনো, আয়ান তোমাকে পছন্দ করে। তারা আজকে তোমাকে দেখতে আসতে চায়। পছন্দ হলে আংটি বদল হয়ে থাকবে। কিন্তু এখানে আসার পরে ভাবি আবদার করছেন তোমাকে একদম আকদ করিয়ে আজকে তাদের সাথে নিয়ে যাবেন আর সামনে সপ্তাহে রিশিপসন করে সবাইকে জানাবেন। দেখো না শাড়ি গহনা কিনে ভাবি তো একদম হুলুস্থুল কান্ড করে ফেলেছেন।"
কিন্তু বাবা আমি!
তোমার কোন আপত্তি থাকলে আমরা আগাবো না, তোমার কি কোন পছন্দ আছে মা? যদি থাকে আমাকে বলতে পারো কিন্তু কেউ না থাকলে তো তাদের মানা করে অসম্মান করতে পারি না। আয়ান যথেষ্ট ভালো ছেলে।
না আমার পছন্দের কেউ নেই তবুও বাবা। উনি আমার বস। হঠাৎ এভাবে কিছুই না জেনে আগানোটা কি ঠিক হবে?
মিসেস ইসরাত বলে উঠলেন, কেন মা? আমার ছেলেকে কি তোমার পছন্দ নয়? তার মধ্যে কি খারাপ কিছু দেখেছ তুমি? থাকলে নির্দিধায় বলতে পারো আমাকে।
না না আন্টি তেমনটা নয়। আসলে।
আংকেল আন্টি, বাবা মা আমি একটি আফজার সাথে একা কথা বলতে চাই। অনুমতি পাবো কি? বলে উঠে আয়ান।
সবাই সম্মতি দিলে আয়ান উঠে গিয়ে আফজার ঘরে আফজা যাবার পরে দরজা আটকে দেয়।
দেখ আফজা আমি জানি তুমি কি ভাবছো? রইলো কন্ট্রাক্টের কথা। সেটা আমার তৈরী ভাঙা বা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণই আমার। প্লিজ তুমি আর অমত করো না, আমার বাবা মা কষ্ট পাবেন তাছাড়া আমার বাবার কাছে আংকেলও ছোট হবেন। এমনকি তাদের এত বছরের ফ্রেন্ডশীপটাও নষ্ট হবে। এরপর তোমার বিবেচনা ভেবে দেখ তুমি।
আয়ান হঠাৎ আফজার হাত দুটো ধরে বলে," আমি জানি কাজের ক্ষেত্রে আমি অনেক স্ট্রিক্ট। মাঝে মাঝে দুর্ব্যবহারও করতে হয় কিন্তু বিশ্বাস করো প্রেমিক কিংবা স্বামী হিসেবে আমি মোটেও এমন খারুচ নই। শেষদিন পর্যন্ত অফুরন্ত ভালোবাসবো, অনেক ভালো রাখবো তোমায়। একটা সুযোগ দাও প্লিজ!
আফজা কিছুক্ষন ভেবে সম্মতিতে মাথা নাড়ায়। আয়ান খুশি মনে বের হয়ে যায় বাবা মাকে জানাতে, কাজী আনার ব্যবস্থা করতে। আয়ান চলে যেতেই ধপ করে বিছানায় বসে পড়ে আফজা। কি হচ্ছে এসব তার সাথে? যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাইলো সে অন্যের স্বপ্নের রাজকুমার আর যার কথা স্বপ্ন তো দূর অবচেতন মনেও কোথাও ঠাই দেয় নি আজ সে এসে তার মনের দরজায় কড়া নাড়ছে। একদিকে বাবার সম্মান, আরেকদিকে তাকে যে চাইছে তার খুশি। এই বলয়ের মধ্যে সে কোথায়? সবাই যার যার মত করে ভাবছে, কেউ তো তার কথা একবারও চিন্তা করছে না? তার মা? সেও কি পারতো না একবার তার মন পড়তে?
এতসব ভাবনার মাঝেই মিসেস রেহানা এসে আফজার জন্য আনা শাড়ি গহনা রেখে যায়। সে ধীর পায়ে উঠে নিজেকে সাজাতে থাকে। মিসেস ইসরাত নিজ হাতে ছেলের বউকে শাড়ি পরিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে যান। কাজী এসে বিয়ে পড়াতে থাকেন। অনেক কষ্টে কয়েকবার থেমে আফজা 'কবুল' বলে দেয়। আয়ানের কবুল বলা শেষ হলে মায়েরা তাদের মিষ্টিমুখ করান আংটি বদল করিয়ে দেন।
ঠিক হয় আজ আয়ান এই বাড়িতেই থেকে যাবে। পরের সপ্তাহে ঘটা করে অনুষ্ঠান করে নিয়ে যাবে আফজাকে ওই বাড়িতে।
বর্তমান।
হঠাৎ করে গাড়ি ব্রেক করায় আফজার ধ্যান ভাঙে। চারিদিকে তাকিয়ে দেখে সে গাড়িতে বসে আর গাড়ি তার বাসার সামনে। একটু সন্দিগ্ধ ভাবে আয়ানের তাকায় সে। সে তো বাড়ির ঠিকানা বলে নি, তবে আয়ান চিনলো কিভাবে? তাকে ফলো করছে আয়ান?
তার অবাক চেহারার তাকিয়ে ভিলেনী হাসি দিয়ে আয়ান বলে, " যা ভাবছো ঠিক তাই। কি ভেবেছিলে? আমার বউ বাচ্চার খবর আমি রাখবো না? আমার বাচ্চা নিয়ে ভাগবে আর এমনি এমনি ছেড়ে দিবো? তা আর হচ্ছে না জান। এইবার খাচার পাখি আবার খাচায় আসার জন্য প্রস্তুত হউ। অনেক উড়েছো এইবার ডানা ছেটে দেয়া হবে।
বাড়াবাড়ি করো না সোজা মেয়েকে নিয়ে আমি বের হয়ে যাবো এরপরে যা হবে সব তোমার বিবেচনা।"
বলে একটা চোখ টিপে বাসার ভিতরে চলে যায় ডাকতে থাকে সায়েরীকে। আফজা কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে থেকে নেমে পড়ে গাড়ি থেকে। আয়ানকে বিশ্বাস নেই, পরে মেয়ে নিয়ে চলে গেলে?
