#তোমাকে_ঘিরে
#পর্ব_৮
সায়েরী! মামনি সায়েরী!!
পাপাহ!
দৌড়ে এসে চার বছরের একটি মেয়ে কোলে চড়ে বসে আয়ানের। এই দেখে আফজা ঘাবড়ে যায়। সে মেয়েকে চিনে কিভাবে? আর রহিমা খালাও আমাকে কেন বলেনি যে, আয়ানের সাথে সায়েরীর দেখা হয়েছে?
তুমি সায়েরীকে কিভাবে চিনো?
আফজার প্রশ্নে আয়ান তার দিকে ফিরে তাকায়। উত্তর দেয়,
" কি ভেবেছিলে? মেয়েকে লুকিয়ে রাখবে আর আমি জানতেও পারবো না? রহিমা খালা কে চিনো তুমি? আসলে দেখতে চাচ্ছিলাম কত উড়তে পারো তুমি? কত সাহস তোমার? আমার নামে ডিভোর্স ফাইল করো? আমি না চাইলে কোন উকিল লড়তো তোমার কেস? কি মনে হয়?"
"লিসেন আফজা! আমাদের বিয়েটা হয়েছে সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছায়, বাচ্চার মা হয়েছো আমারই ইচ্ছায় এই যে আলাদা থাকছো তাও আমিই চেয়েছি তাই। আর আজকে আবার আমার হয়ে যাবে পুরোপুরি আমার ইচ্ছায় কোন টু শব্দ শুনবো না।"
মানে কি?
মানে? মানে এই চুপচাপ যেয়ে বিয়ের শাড়িটা পরে বাইরে আসো। কাজী আসছেন দশ মিনিটের মধ্যে। বিয়েটা সেরে আমরা আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো। আমার মেয়ে আর এই ভাড়া বাসায় থাকবে না।
কিন্তু!
স্টপ! নো মোর টক। আমাকে আগের আয়ান হতে বাধ্য করো না। যাও রেডি হও। আমি আমার মেয়ের সাথে একটু সময় কাটাই। আমার মা আজকে তার বাবা মায়ের বিয়ের স্বাক্ষী হবে।
বলে সায়েরীর গালে আদর দিয়ে তাকে কোলে নিয়ে ড্রয়িংরুমে চলে যায়। আফজা গালে হাত দিয়ে বসে ভাবে কি থেকে কি হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।
কিছুক্ষন এইভাবে বসে থাকার পরে নিচে থেকে ডাক এলো। আফজা শাড়ি পরে কাজীর সামনে যেয়ে বসলো। কাজী পুনরায় তাদের বিয়ে পড়িয়ে কাবিন নামায় সাইন করে চলে গেলেন। সায়েরী তো বাবা মায়ের বিয়ে দেখে বেজায় খুশি!তারপর তারা একসাথে রওনা দিলো আয়নের বাড়ির দিকে। সাথে রহিমা খালাও গেলেন। আফজা যখন অফিসে থাকবে, তখন সায়েরীকে দেখাশুনা করার জন্য।
বাড়িতে ফিরে সায়েরীকে খাইয়ে দিয়ে রহিমা খালার হাতে ঘুমা পাড়ানোর জন্য তুলে দিয়ে আফজা আর আয়ান খেতে বসে। আফজা একটু উসখুস করছে কিছু বলার জন্য। আয়ান বুঝতে পেরে বলে," খেয়ে নাও, রুমে যেয়ে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবো।"
এই কথা শুনে আফজা চুপচাপ খেতে শুরু করে। খাওয়া শেষে আয়ান উঠে বলে," ফ্রেশ হয়ে আমার রুমে এসো দুই কাপ চা নিয়ে। " আয়ান চলে যায় নিজের রুমে ফ্রেশ হতে।
আফজা আর সায়েরীর জন্য তার পাশের রুমটাই বরাদ্দ করা হয়েছে। আফজা ফ্রেশ হয়ে নাইট ড্রেস পরে চা বানিয়ে আয়ানের রুমে যেয়ে নক করে।
খোলা আছে চলে এসো।
আপনার চা।
হুম দাও। চলো বারান্দায় বসি। সায়েরী ঘুমিয়েছে?
হুম
আকাশের চাদটা খুব সুন্দর, তাই না আফজা? আমার পাশে বসা চাদটা কিন্তু তার চেয়েও বেশি সুন্দর।
কথাটা শুনে আফজা চমকে আয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে আয়ান তার দিকে মুগ্ধ চোখে চেয়ে আসে। সে চুপ করে চায়ে চুমুক দেয়। আয়ান আবার বলতে শুরু করে,
আমি জানি তোমার মনে অনেক প্রশ্ন। আমি সবগুলোর উত্তর দিতে আজ প্রস্তুত তবে আগে আমার কিছু কথা আজ শুনে নাও।
আমার দীর্ঘ ২৮ বছর জীবনে কোন মেয়ে আসে নি। পড়ালেখা করেছি কম্বাইন্ডে তবে মেয়েদের আমার কাছে আলাদা কিছু লাগে নি, মনে হয়েছে তারা তো ফ্রেন্ড আলাদা করে দেখার কি আছে? বাবার কোম্পানী জয়েন করেছি তাই আলাদা করে আর জবের জন্য প্যারা পোহাতে হয়নি, সব রেডি প্লট। এর মধ্যে আমার একজন খুব দরকার হয়ে পড়ে। জবের এ্যাড দেয়ার পরে তো মাথা নষ্ট! দুইশত চৌদ্দ জন ক্যান্ডিডেট? কিভাবে কি করবো? ইন্টারভিউ নিতে নিতে মাথা নষ্ট, সবগুলো গবেট! লাষ্ট ক্যান্ডিডেট যে আসলো তাকে ভালো লেগে গেলো। স্মার্ট বুদ্ধিমতি, আমার চোখে রূপসী। সিলেক্ট করে নিলাম তাকে। দুই মাসে কাজের ফাকে ফাকে আমার মনও কেড়ে নিলো সে। ভাবলাম জন্মদিনের রাতে ডিনারে প্রপোজ করবো। যেই ভাবা সেই কাজ! কিন্তু ফল হলো বুমেরাং! ম্যাডামের মনে অন্য একজন বাস করে। কি করি? কি করি? তার পিছু নিলাম, পেয়েও গেলাম কে সেই বান্দা? আমারই ছোটবেলার বন্ধু? মনটা ভেঙে গেলো। তবে আল্লাহ সহায় ছিলেন তাই আবার আমার পথ খুলে গেলো। রিফা মিতুলকে পছন্দ করে বসলো আর এটা জেনে ম্যাডাম তাকে ফিরিয়ে দিলেন। খুশিতে আমি নিজ খরচে রিফা আর মিতুলের বিয়ে দিয়েছিলাম, রিফার বড় ভাই হয়ে মনে আছে তোমার?
আফজা শুনছে আর মিটিমিটি হাসছে। সম্মতিতে মাথা নাড়ালো।
তারপর ভাবলাম আর দেরি নয়। বাবা মাকে জানিয়ে সোজা তোমার বাসায় যেয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম, সেদিন রাতেই বিয়ে করে নিলাম। আমি যে কোনকিছুর বিনিময়েই তোমাকে হারাতে চাই নি আফজা! তবুও কোথায় যেনো তার কেটে গেলো, তুমি হারিয়ে গেলে। কেন গেলে আফজা? আমাকে ছেড়ে কেন চলে গেলে?
আফজার হাত দুটি নিজের হাতের মুঠোয় পুরে আয়ান জিজ্ঞাসা করে। চোখে তার জানার আকুতি অকুল! কি উত্তর দিবে আফজা? তা জানার আগ্রহ আয়ানের প্রবল।
