Type Here to Get Search Results !

ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ১৯


 অতঃপর আমি একাই গেলাম ভিতরে। ইতি যে এতো ভীতু আগে জানতাম না। যাই হোক, হাঁটতে হাঁটতে বেশ ভিতরে চলে এলাম। কিন্তু এখন অবদি কাঠ বাদাম গাছ পাচ্ছি না। আমার হাঁটার সময় সুন্দর একটা আওয়াজ আসছে। আর তা হলো পাতার আওয়াজ। শুকনো পাতার উপর হাঁটলে যে আওয়াজ আসে ঠিক সেই আওয়াজ। তার সাথে কিছু পাখির কিচিরমিচির শব্দ। এখানে মনে হচ্ছে অনেক ধরনের পাখির বাসা আর আমি তাদের এলাকায় আছি। আচ্ছা তারা কি কিচিরমিচির করে আমাকে কিছু বলছে। স্বাগতম জানাচ্ছি বুঝি আমাকে, আমি তো নতুন তাদের এলাকায়। আর পাখিরা তো খুব মিষ্টি আর সুন্দর দেখতে। ভয়ংকর পাখিও আছে বটে তবে তারা লোকালয় থেকে দূরেই থাকে তাই বোধহয় তারা ভয়ংকর। নাকি ভয়ংকর বলেই দূরে থাকে। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা কাঠ বাদাম গাছ। বেশ বড় লম্বা একটা গাছ। আমার ধারনা গাছের আশেপাশেই কিছু বাদাম পড়ে থাকবে। আর তাই হলো! আমি সেখান থেকে বাদাম কুড়িয়ে উড়নার আঁচলে রাখতে শুরু করলাম। একটা বাদাম চোখে পড়ল। একদম পাকা বাদাম। এর রঙ টা উপরে দিক দিয়ে পাকা হলুদ রঙের। আমি জানি ভিতরে এটা গোলাপি রঙের হবে। গ্রামে থাকতে অনেক খেয়েছি এসব!আমি সেই বাদাম টা নিতে গেলাম। কিন্তু তার আগেই কেউ সেটা নিয়ে গেল। আমি থতমত খেয়ে তাকিয়ে রইলাম আহাম্মক'র মতো! খুব বিস্মিত হলে তাকে দেখে। এখনও আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে..আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে, খুব ছোট ছোট পায়ে দ্রুত গতিতে দৌড়ে যাচ্ছে সে। সে নিতান্তই একটা বাচ্চা কাঠবিড়ালী! আর এই ছোট কাঠবিড়ালী টা আমার কাঠ বাদামের ভাগিদার হয়েছে। বেশ দেখতে সে। হালকা বাদামি রঙের সে, সামনের ছোট ছোট হাত গুলো দিয়ে বাদাম টা ধরে রেখেছে। কিন্তু সে একটা বাচ্চা কাঠবিড়ালী এটা আমি বলতে পারি। তাকে দেখার পর আবারো তাকে দেখবার কৌতূহল জাগল আমার মনে। আমি তার পিছু পিছু যেতে লাগলাম। এই শুকনো পাতার'র উপর দৌড়ে দৌড়ে যাচ্ছে সে। তাকে লক্ষ্য করে আমি নিচু হয়ে চলছি তার পিছু পিছু। হঠাৎ মনে হলো ধাক্কা খেলাম কারো সঙ্গে। পড়ে যেতে নিলাম কিন্তু সে আমার হাত টা ধরল। আমি মুখটা উঁচু করে তার দিকে তাকিয়ে দেখি এটা আর কেউ না আহিয়ান! তার এক হাতে ফোন, কানে হেডফোন গুজানো আর অন্য হাতে আমার হাত ধরে অবাক চাহনিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমাকে এখানে দেখে কি সে খুব অবাক হলো।কিন্তু অবাক কেন হবে? খানিকক্ষণ এর মধ্যেই বুঝতে পারলাম আমার হাত জ্বলছে। দ্রুত তার হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিলাম। হাতের যে অংশ তিনি ধরেছেন সেখানে পুড়ে গেছে। কিন্তু পুড়ল কিভাবে? আমি উনার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি যেই হাত দিয়ে আমাকে ধরেছে সেই হাতে জ্বলন্ত সিগারেট! বুঝতে বাকি রইলো না হাত টা কিভাবে পুড়ল তবে সেটা খুব কম। একটা জ্বলন্ত সিগারেট এর আগুন তো আর আমাকে পুড়িয়ে ফেলবে না কিন্তু তবুও আমি তার উপর চটে গেলাম। কারন ছিল কাঠবিড়ালী! "কিহ বললে কাঠবিড়ালী! "হ্যাঁ কাঠবিড়ালী! আপনার জন্য কাঠবিড়ালী বাচ্চা টাকে হারিয়ে ফেললাম। কি সুন্দর দেখছিলাম তাকে। কে বলেছিলো মাঝখানে আপনাকে আসতে! উনি আমার দিকে ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে সিগারেট টা মুখে দিলেন। অতঃপর চলে গেলেন! তার উপর মেজাজ এতো খারাপ লাগলো যা বলে প্রকাশ করার মতো না। আমার খুব ইচ্ছে সেই কাঠবিড়ালী কাঠ বাদাম নিয়ে কি করে সেটা দেখার। জানি এটা সে খেয়ে ফেলবে কিন্তু তবুও তাকে দেখার কৌতুহল আটকে রাখতে পারছি না!আমি তাকে খুঁজতে খুঁজতে একটু সামনে গেলাম। দেখলাম একটা ভয়াবহ দৃশ্য! ভয়ে আমি দুই হাত একসঙ্গে মুষ্টিবদ্ধ করে এক পা পিছনে চলে গেলাম। একটা সাপ আর কাঠবিড়ালী'র যুদ্ধ চলছে এখানে। এটা মনে হচ্ছে সেই বাচ্চা কাঠবিড়ালী আর সাপটা তার থেকেও অনেক বড়। দু'জনেই বেশ হামলা করছে তাদের উপর। কাঠবিড়ালী টাকে দেখে মনে হচ্ছে সে হার মনে নেবে এখনো"ই। খুব মায়া হচ্ছে তাকে দেখে ইচ্ছে করছে গিয়ে বাঁচা'ই তাকে। কিন্তু সাপের কারনে বেশ ভয় ও করছে আমার! আমি আশপাশে দেখছি কিছু খুঁজে পাই কি না যা দিয়ে সাপ টাকে তাড়ানো যায়। হঠাৎ দেখলাম সাপটার উপর কেউ গাছের ঢাল ছুঁড়ে মারল। আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি আহিয়ান! গাছের ঢালের আঘাতে সাপ টা চলে গেছে। অতঃপর আমি দ্রুত যাই সেই কাঠবিড়ালী'র কাছে। বেচারা'কে দেখে বেশ ক্লান্ত লাগল। আহিয়ান আমাকে জিজ্ঞেস করল.. "ও কি ঠিক আছে! "ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে হয়তো বাঁচবে! উনি হাতের সিগারেট টা ফেলে আমার হাত থেকে কাঠবিড়ালী টা কে নিলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে চলে

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.