ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২০
September 28, 2024
0
যেতে লাগলেন। আমি উঠে তার পিছু যেতে যেতে বললাম.. "কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে! "ডাক্তারের কাছে, দেখি বাঁচে কি না! আমি আর কিছু বললাম না। বিষয় টা তো ভালো যদি বেঁচে যায় কাঠবিড়ালী'টা তাহলে তো ভালোই! দুজনেই হাঁটতে হাঁটতে বাগানে বাইরে এলাম। এসে দেখি আরেক কান্ড! ইতি হেসে হেসে, দুলে দুলে কথা বলছে আকাশ ভাইয়ার সাথে। আমি ওকে দেখতেই থাকি। এর মাঝেই আহিয়ান আকাশ ভাইয়া কে ডাক দেয়। তারা দুজনেই আমাদের দিকে তাকায়। আমাদের দু'জন কে একসাথে দেখে তারা অবাক হয়। অতঃপর তাদের চোখ পড়ে আহিয়ান'র হাতে থাকা আঘাত পাওয়া কাঠবিড়ালী'র দিকে। ইতি চমকে উঠে বলে.. "এসব কিভাবে হলো? আকাশ ভাইয়া বলেন.. "কাঠবিড়ালী'র অবস্থা তো ভালো না। আমি কিছু বলতে যাবো এর আগেই আহিয়ান বলে উঠে.."এসব কথা বাদ দিয়ে গাড়ি বের কর, ডাক্তার'র কাছে নিয়ে যাবো ওকে! আকাশ ভাইয়া কোন কথা না বলে চলে যায়। আহিয়ান ও যায় তার পিছু পিছু! ইতি আমাকে বলল যাতে আমরা তাদের পিছু পিছু যাই কিন্তু আমি না বলে দিলাম। কারন আমার আবার টিউশনি তে যেতে হবে, এভাবেই অনেকটা লেট হয়ে গেছি আমি। এখন আর সময় নষ্ট চলবে না। উনি যখন নিয়ে গেছেন তাহলে কাঠবিড়ালী টাকে দেখেই রাখবেন। পরে খোঁজ নিয়ে নেবো। ইতি আর কিছু বললো না। অতঃপর দুজনেই বের হয়ে গেলাম। বাসায় আসতে আসতে আজ খুব দেরি হয়ে গেল। ঘরে এসে ঘড়িতে দেখি সময় চলে যাচ্ছে। তাই আর বসে না থেকে বের হয়ে গেলাম। দুপুরে আজ আর খাওয়া হলো না, সময়টা ওই বাগানেই চলে গেল খানিকক্ষণ! রিনু'র মা আজ মনে হচ্ছে একটু রেগে আছেন। দরজা খোলার সময় তার মুখটা বেশ গম্ভীর দেখেই আমি বুঝতে পারলাম। কারন টা অবশ্য আমার জানা, সেটা হলো আজ আমি ১০ মিনিট দেরি করে এসেছি।প্রতিদিন কি ভালো লাগে আমার এসব। আজ এভাবেই আমার মন টা খুব খারাপ, তার উপর এতো কিছু আমার মন কে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে। হ্যাঁ আমি জানি অন্যের অধীনে কাজ করলে এমন দু একটা কড়া কথা আপনাকে শুনতে হবেই, আর এসব কথা আপনি শুনতে বাধ্য। তবে সবসময় সেসব কথা শোনার বোধগম্য সবার হয় না। তুহিনের আম্মু আজ তাকে একটু বেশি পড়াতে বলল, কারন সামনে তার পরিক্ষা! বলছে একটু বেশি সময় দিয়ে পড়াতে। আমি শুধু একটা কিঞ্চিত হেসে মাথা নাড়লাম। কারন তার কথার মাঝে বিনয় ছিল। বিনয়ের সাথে কথা বললে সেটা কটু কথা হলেও শুনতে ভালো লাগে। আর তুহিন.. তার মা বেশি পড়াতে বলে গিয়ে যাবার পরপরই সে বলল তাকে কম পড়াতে। তাদের এই মা আর ছেলের মাঝে আটকে থাকি আমি সবসময়। একজন কিছু বললে অন্যজন তার উল্টো বলে। তবে আমাকে অভিভাবক'র কথাই শুনতে হবে। আমি বাধ্য তার কথা শুনতে! তুহিন'র বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি আঁধার নেমে গেছে। ইদানিং এমন'ই হবে আমি ধারনা করতে পারছি। গন্তব্য এখন শুধু বাসা। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে বেশ ক্ষিদে পেয়েছে। কখন যে বাসায় যেয়ে দু'মুঠো ভাত খাবো সেটাই ভাবছি। এই ভাতের দায়ে মানুষসারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে বেশ ক্ষিদে পেয়েছে। কখন যে বাসায় যেয়ে দু'মুঠো ভাত খাবো সেটাই ভাবছি। এই ভাতের দায়ে মানুষ অনেককিছুই করে, কেউ সারাদিন ঘাটে তো কেউ মানুষ খুন করতে রাজি হয়। তবে দুটোর পিছনে কারন এক আর তা হলে দিনের শেষে দু'মুঠো ভাত! ভার্সিটির এক কোনে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আমার পাশে ইতি বসে ডায়রি তে কি আঁকাআঁকি করছে। আমার দৃষ্টি আহিয়ান আর তাদের বন্ধুদের উপর। বলতে গেলে আহিয়ানের উপর। তার দিকে তাকানোর মানে হলো কাঠবিড়ালী'র কথা জানতে ইচ্ছে করছে খুব। কিন্তু কিভাবে যাবো তার কাছে এটা ভাবতে গিয়েই আমি বার বার হতাশ হচ্ছি। অতঃপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। ইতি হেসে বলে... "একটা কাঠবিড়ালী'র কথাই তো জিজ্ঞেস করবি। এতে এতো অস্থিরতা কারন কি? "বুঝতে পারছি না! আমার কথায় সে মুখ টিপে হেসে বলে.. "এই কথাটা বেশির ভাগ মেয়ে তাদের প্রেমের বিরহে বলে থাকে। "বাজে কথা বাদ দে!
Tags

