ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২, পর্ব ২১
September 28, 2024
0
"আচ্ছা ব্যাপার কি বলতো, গতকাল তুই আর আহিয়ান ভাইয়া একসাথে আসলি! "আসলে... (সব টুকু বললাম শুধু ধাক্কা খাওয়া বাদে। নাহলে এটা নিয়ে সারাদিন কানের কাছে মাছির মতো ভন ভন করবে ইতি) "ওহ! আমি "হুম" বলে সামনে তাকাতেই দেখি তারা সব বের হয়ে যাচ্ছে। এই চলে যাচ্ছে নাকি, কিন্তু কাঠবিড়ালী'র খবর যে আমার চাই। নাহলে খুব চিন্তা হবে আমার। কি মনে করে আমি ব্যাগ নিয়ে ছুটে গেলাম তাদের কাছে। আমাকে ছুটতে দেখে ইতিও ছুটল আমার পিছনে। দুজনেই ছুটছি! আমি পেছন থেকে আকাশ ভাইয়া বলে ডাক দিলাম। আমার ডাক শুনে তারা থেমে গেল। অতঃপর তারা সবাই পিছনে ফিরে আমাকে দেখল। সবার নজর আমার দিকে হলেও আহিয়ান'র নজর আমার দিকে না। সে হাতে একটা বই নিয়ে কি জানি পড়ছে খুব মন দিয়ে। নিতি মেয়েটা অদ্ভুত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকাল। আনিকা আর টিনা বিরক্তিকর ভঙ্গিতে। বাকি সবাই কৌতুহল বসত তাকিয়ে আছে। সবার আগ্রহআমি কি চাই তাদের কাছে। আকাশ ভাইয়া বলল.. "কিছু বলবে! "আসলে ভাইয়া আমি.. বলার আগেই আহিয়ান বলে উঠে.. "কাঠবিড়ালী ঠিক আছে, ডাক্তার তাকে কিছু ঔষধ দিয়েছে। আর আপাতত সে তার কাছেই আছে। সাপটা বিষধর ছিল না বলে কাঠবিড়ালী বেঁচে গেছে। কথাগুলো বইয়ের উপর মুখ রেখেই বললেন তিনি। তার কথায় মনের কোথাও শান্তি পেলাম। সবাই অবাক হলেও আকাশ ভাইয়া হেসে বলে.. "তুমি বুঝি কাঠবিড়ালী'র খবর জানতে এসেছো! আমি কানের কোনে হাত দিয়ে মাথা নেড়ে বলি.. "হুম! আমার কথায় ভাইয়া হেসে দেয়। ইতি বলে উঠে.. "কাঠবিড়ালী'র খবর জানার আগ্রহে এতোক্ষণ আমাকে জ্বালাচ্ছিল। এখন খবর পেলি তো!নিতি মেয়েটা বলে উঠে.. "কি ব্যাপারে কথা হচ্ছে! আকাশ ভাইয়া বলেন.. "তোদের বলবো, যা গাড়িতে গিয়ে বস সবাই আমি আসছি! "তুই আসছিস মানে! "আসছি মানে আসছি। লেট হচ্ছে তোরা যা! তার কথায় সবাই চলে যায়, কিন্তু আহিয়ান সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে বই হাতে নিয়ে। আমি তার বই টার দিকে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে কোন গল্পের বই। কারন গল্পের বই ছাড়া বই পড়ায় এতো মনোযোগ সবাই দেয় না। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে গল্পের বই পড়ছেন। একপর্যায়ে তাকে নিতে আনিকাও চলে এলো। সে তার পাশে দাঁড়িয়ে বই'টার দিকে তাকাল। আমি এবার আকাশ ভাইয়া'র দিকে তাকালাম। খুব গম্ভীর লাগছে তাকে। তিনি আমাকে একটু গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করেন.. "নিহা একটা কথা জিজ্ঞেস করবো তোমায়?"জ্বি ভাইয়া বলুন! "তোমার হাতে ওই দাগ টা কিসের? "কোন দাগ! ভাইয়া আমার হাতের দিকে ইশারা দিলেন। আমি তাকিয়ে দেখি সেই সিগারেট'র পোড়া দাগ এটা। ইতি এসে আমার হাত ধরে বলে.. "দেখি দেখি! এমা এতো পুড়ে যাবার দাগ! "হ্যাঁ পুড়ে যাবার'ই দাগ! কিন্তু নিহা এখন এটা বলো না তুমি রাঁধতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছ। কারন এটা সিগারেট'র পোড়ার দাগ। আমি কিন্তু এই দাগ চিনি! সিগারেট'র পোড়ার দাগ শুনে আনিকা, ইতি দুজনেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাকিয়ে আছে আহিয়ান'র দিকে। আর তার মনোযোগ বইয়ের দিকে। এখন কি করে সবাইকে বলবো এটা দাগ'টার কারন আহিয়ান। আকাশ ভাইয়া'র চোখে অনেক প্রশ্ন! আমি বেশ বুঝতে পারছি তার ইঙ্গিত টা আসলে কোথায়? সে আমার মিথ্যে কল্পনার সেই প্রিয় মানুষ কে ইঙ্গিত করছে। সে কি ভাবছে আমার সেই মিথ্যে কল্পনারমানুষ টি আমাকে অত্যাচার করছে। যদি এসব ভাবে তাহলে বলতে হবে তিনি খুব ভালো একজন মানুষ। যে কিনা আমার মতো অসহায় একটা মেয়ের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন। ভাবছেন আমি হয়তো অনেকটা নিরুপায়। তবে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। এভাবে মিথ্যে বলে কারো অনুগ্রহ পাওয়া টা ঠিক, কিন্তু তিনি তো ঠিক। ভুল তো আমি! একটা মিথ্যে বলার কারনে আজ এতো সমস্যা'র সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমায়। এখন কি করা উচিত আমার!
Tags

