Type Here to Get Search Results !

ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২২


 মাথা নিচু করে পায়ের বুড়ো আঙুল'র দিকে তাকিয়ে আছি। মাথায় আসছে না ঠিক কি বলবো তাদের। আকাশ ভাইয়া অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে আছে আমার কথা শোনার জন্য। সবাই চুপ, সবার নিঃশ্বাস'র শব্দ আসছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে সবাই, এর কারন হচ্ছে তারা সবাই উত্তেজিত। আমার বলতে যত দেরি করছি সবার আগ্রহ তত বাড়ছে। আকাশ ভাইয়া এক পর্যায়ে আমাকে ডেকে বলেন.. "নিহা সব ঠিক আছে এতো! আমি ছোট একটা শ্বাস নিয়ে ভাইয়ার দিকে তাকালাম। তার ঠিক পিছনে আহিয়ান দাঁড়ানো। সবার এতো আগ্রহ অথচ তার মুখে এসবের কোন প্রভাব নেই। বইয়ের মাঝে মুখ গুঁজে আছে। এতো মনোযোগ দিয়ে পড়ছে নাকি সে। আচ্ছা তার কি মনে আছে সেদিনের কথা, সে কি জানে এই সিগারেট'র কারণে হাত পুড়ে যাওয়ার ঘটনা টা! আমি কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই দেখলাম আহিয়ানতার বই টা বন্ধ করল। বই টা পড়া হয়তো শেষ। সে একটু স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকাল। অতঃপর হালকা গলা ঝেড়ে বলল.. "ওর হাত আমার সিগারেট'র আগুনে পুড়ে গেছে! উনার কথায় আমি সহ সবাই অবাক। আনিকা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখছে তাকে। সবার অবাক হবার কারন ছিল এটা কি হতে পারে, উনার জলন্ত সিগারেট'র আগুনে আমার হাত পুড়বে কিভাবে! আর আমার অবাক হবার কারন ছিল, উনি কি দেখেছিলেন তার সিগারেট'র আগুনে আমার হাত পুড়েছে। দেখেছে হয়তো নাহলে বললেন কিভাবে। আনিকা অবাক হয়ে বলে উঠে.. "আহি তুই কি বললি? আকাশ ভাইয়া বলে উঠে.. "তোর সিগারেট'র আগুন ওর হাতে লাগল কিভাবে? আহিয়ান হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল.. "আমার হাতে জলন্ত সিগারেট ছিল, আর সেই হাত দিয়ে ওকে ধরেছিলাম তখন লেগেছে। তবে এটা কোন গুরুতর বিষয় না। ছ্যাকা খেয়েছে শুধু বেশি কিছু হয় নি। হলে আমিই দেখতাম! আমাদের সময় হয়ে গেছে, তুই আয় আমি গাড়িতে বসছি!বলেই উনি চলে গেলেন। তার পিছু পিছু আনিকা চলে গেল, কিন্তু যাবার আগে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল। মনে হচ্ছে আমার মুখ টা মনে রাখার চেষ্টা। আকাশ ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে.. "সরি নিহা, আসলে আমি! "ভাইয়া আমি জানি, আপনি যা বলছেন আমার ভালোর জন্যই বলছেন। আমার জন্য চিন্তা করছেন আপনি এজন্য আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তবে তেমন কেন ব্যাপার না। "যদি কখনো তেমন সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই জানিও, সাহায্য করার চেষ্টা করবো তোমায়! "জ্বি ভাইয়া অবশ্যই! অতঃপর ভাইয়া চলে গেল। আমি ইতি'র দিকে তাকালাম। সে হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার মুখটা বন্ধ করে দিয়ে বললাম.. "মুখ টা বন্ধ কর নাহলে মাছি ঢুকবে! "আহি ভাইয়া সত্যি তোর হাত ধরেছিল!"সেটা একটা এক্সিডেন্ট ছিল, আমি পড়ে নিলাম তখন ধরেছিল। "কখন, কিভাবে, কোথায়? "গতকাল বাগানে! "তুই আমাকে বললি না কেন? আমি উল্টো হয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলি... "এটা তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না যে বলে বেড়াব! ইতি আমার সাথে সাথে হাঁটতে হাঁটতে বলে.. "তুই বুঝতে পারছিস না এটা কতো বড় বিষয়, আহি ভাইয়া তোর হাত ধরেছে বুঝতে পারছিস। যদি নিতি জানে তো কি করবে তোর! "আমি বলে দেবো এটা একটা এক্সিডেন্ট! "তুই বললেই কি সে মেনে নেবে! "তুই চুপ করবি, ভালো লাগছে না আর এইসব। "নিহা, বলি কি দুদিন ভার্সিটিতে আসিস না।"কেন? "তোর ভালোর জন্য, নিতি মেয়েটা বেশ সুবিধার না। "তুই এভাবে এভাবে ভয় পাচ্ছিস দেখিস কিছু হবে না। ইতি কিছু বলার চেষ্টা করল আমি তাকে আটকে দিলাম। ভালো লাগছে না আর এসব শুনতে! মিতু আপু আজ একটু বেশি বেশি খুশি লাগছে, মাঝে মাঝে দেখছি একা একা হাসছে। মুন্নি আপু খাটের এক কোণে বসে কার সাথে যেন কথা বলছে। ভিডিও কল মনে হচ্ছে, কারন সে ফোনটা তার সামনে ধরে বকবক করছে। মিতু আপু সবে সব কিছু জোগাড় করে রান্না ঘরে গেছে রাঁধতে, তার পিছু পিছু আমিও গেলাম। গিয়ে দেখি সে দাঁড়িয়ে কিসব ভাবছে আর হাসছে। এদিকে কড়াই গরম হয়ে পুড়ে ধোয়া উড়ছে। আমি দ্রুত গিয়ে আপু কে ডাকলাম, অতঃপর চুলা কমিয়ে দিয়ে তাতে পেঁয়াজ ছেড়ে দিলাম। আপু খুন্তি দিয়ে পেঁয়াজ নাড়তে লাগল। আমি বলে উঠি.. "কার ভাবনায় এতো বিভোর তুমি!

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.