#তোমাকে_ঘিরে
#পর্ব_৬
অফিসের পাশের রেষ্ট্রুরেন্টে মিতুল ফুল হাতে আগে থেকেই টেবিল বুকড করে বসে আছে। ঠিক তার পাছনেই চেহারা কিছু আড়াল করে বসে আছে রিফা। যদিও বলেছিলো সে লাঞ্চে বাধা দিবে না তবুও মেয়ে মানুষের মন তো! আফজা কি বলে জানার খুব আগ্রহ। তার পাশের টেবিলেই বসেছে আয়ান সেও মুখ ঢেকে বসে আছে মেনু কার্ড দিয়ে।
কেউ ই কাউকে দেখে নি। সবার একটাই আগ্রহ আফজা আর মিতুল কি বলে? রিফা একটা কোল্ড কফি আর আয়ান একটা হট কফি অর্ডার করে চুপ করে বসে আছে।
আফজা এসে বসলো টেবিলে। হাসলো মিতুলের দিকে তাকিয়ে। বললো, "অর্ডার করেছো?"
"না। তুমি আসলে করবো তাই এখনো অর্ডার দেয়া হয় নি।"
"ওহ! তাহলে অর্ডার টা দিয়েই বরং কথা বলি? তুমি তো জানোই খারুচটা আবার সময়মত অফিসে না পেলে চেচামেচি করবে। ওয়েটার?"
খারুচ কথাটা শুনে আয়ানের কান গরম হয়ে উঠে! আমি খারুচ? দাড়াও আজকে তোমার হচ্ছে! এদিকে কথা শুনে রিফা ফিক করে হেসে আবার মুখ চেপে ধরে নিজের। হঠাৎ হাসি শুনে ভ্রু কুচকে একবার পাশের টেবিলে তাকায় তারপর আবার তাদের কথায় মনযোগ দেয়।
ওয়েটার আসলে আফজা আর মিতুল অর্ডার দিয়ে কথা বলা শুরু করে।
আফজা : মিতুল তুমি কি জানো ভালোবাসা আসলে কি? হতে কতদিন লাগে? ভালো লাগা আর ভালোবাসার মাঝে পার্থক্য কি?
মিতুল: ভালোবাসতে সময় নয় মনের প্রয়োজন। ভালো লাগা আর ভালোবাসা যেমন এক নয়, তেমনি বছরকে বছর একটা মানুষকে ভালো লাগতে পারে আবার কাউকে দেখে এক চটকাতেই ভালোবেসে ফেলা যায়।
কোনটা বেশি প্রয়োজন তুমি যাকে ভালোবাসো নাকি যে তোমাকে ভালোবাসে?
এইটা ডিপেন্ড করে।
তুমি যদি জানো কেউ তোমাকে সাড়ে তিন বছর ধরে ভালোবাসে তুমি পারবে অন্যের প্রতি কিছু ক্ষনিকের জন্য তৈরী ভালোবাসাকে ভুলে তার কাছে ফিরে যেতে?
মিতুল একটু ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে, কি বলতে চাও? খোলাসা করে বলো।
আফজা কিছুক্ষন চুপ থেকে বলতে শুরু করে, " আসলে আজকে রিফার সাথে সকালে দেখা হয়েছিলো। তারপর তাকে সকালের কথাগুলো বলে আফজা আবার বলতে শুরু করলো, আমি জানি তুমি আমাকে পছন্দ করো, কিছুক্ষেত্রে আমিও তোমাকে পছন্দ করি কিন্তু আমার মনে হয় তোমার রিফার কাছে ফিরে যাওয়া উচিৎ।
মিতুল খাচ্ছিলো হঠাৎ তার চামচটা হাত থেকে পড়ে যায়! পৃথিবী যেন ঘুরতে থাকে! মৃদু স্বরে ডেকে উঠে,"আফজা! কি বলছো তুমি এইসব?"
আমি ঠিকই বলছি মিতুল। আমাদের ক্ষনিকের ভালো লাগা থেকে রিফার ভালোবাসা অনেক বেশি পবিত্র। তুমি ওকে মেনে নাও প্লিজ!
কিছুক্ষন চুপ থেকে মিতুল বলে,"ঠিকাছে, তুমি যা চাইছো তাই হবে।"
ঠিক আছে, তাহলে আজকের এই ফুল পাবার অধিকার শুধুই রিফার। আমার খাওয়া শেষ আজ আমি উঠি।
মিতুল আর কিছুই বলতে পারে না, শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। তার চোখ জলে টলমল করছে। ওয়েটারকে বিল দিয়ে সেও আফজার পিছন পিছন বের হয়ে যায়।
এইদিকে রিফা আনন্দে লাফিয়ে উঠে, "ইয়েস!" নাচতে নাচতে পাশে ফিরে দেখে আয়ান দাঁড়িয়ে। আয়ানও খুশি তবে এমপ্লয়ির সামনে গাম্ভীর্য ধরে রেখে একটু কেশে বলে, " লেটস গো। অফিসের টাইম হয়ে গেছে।"
রিফা মৃদু স্বরে, "ইয়েস স্যার।" বলে জিবে একটা কামড় দিয়ে আয়ানের পিছন পিছন ছুটে।
রিফা ডেক্সে এসে দেখে তার ডেক্সের সামনে মিতুল দাঁড়িয়ে। হাতে ফুল। রিফা আসতেই তাকে জিজ্ঞাসা করে, "কি ব্যাপার? কোথায় গিয়েছিলে?"
"লাঞ্চে স্যার।"
"কিন্তু ক্যান্টিনে তো তুমি ছিলে না?"
"স্যান্ডুইচ খেতে নিচে গিয়েছিলাম স্যার।"
"হুম এইসবই খাও! নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছো একবার? পুরা একটা হাড্ডির দোকান! যাকে ভালোবাসো তার শরীর দেখেছো? সামলাতে পারবে তাকে? মনে তো হয় না? প্রথম রাতেই আমাকে হাসপাতালে দৌড়াতে হবে।"
"জি স্যার?"
এইসব শুনে রিফা তো থ! কখনো এমন বেফাস কথা আজ পর্যন্ত মিতুল বলেনি তার সাথে।
"কিছু না। ছুটির পরে অপেক্ষা করো কথা আছে। আর শুনো তোমার অভিবাবকের নাম্বার আর বাসার ঠিকানাটা লিখে দাও তো। আপু আর দুলাভাইকে পাঠাতে হবে তোমাদের বাসায়। ভালো কথা অফিস ম্যনেজারকে বিয়ে করতে কোন সমস্যা নেই তো তোমার?"
মানে কি স্যার?
এর মানে শুক্রবার বুঝতে পারবে। কাজ করো।
রিফার তো নাচতে ইচ্ছা করছে। আফজা তার কাজ এত সহজ করে দিবে কখনো কল্পনাও করেনি।
বিকাল পাচটা। আফজা একা একা হেটে যাচ্ছে অন্য মনষ্কভাবে। ইচ্ছে করছে না বাসায় যেতে আবার যেতেই হবে। মা আজকে তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন কল করে, বাবার কোন বন্ধু আসবে বাসায়। হঠাৎ তার সামনে আয়ানের গাড়ি ব্রেক কষে ওকে জানালা দিয়ে ডাকে,"ভেতরে এসো। দুইজনের গন্তব্য একই।"
মানে?
মানে আমি জিগাতলা যাচ্ছি আব্বুর বন্ধুর বাসায়, উঠে এসো।
আফজা কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে। গাড়ি এসে থামে তাদের বাসার সামনে। আয়ানও নামে। তার মানে আয়ানের বাবার বন্ধু আফজার বাবা? একটু অবাক হলেও কাকতালীয় ভেবে আফজা লিফট থেকে নেমে সোজা নিজের রুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে।
