ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২৪
September 29, 2024
0
আজ দাদি'র সাথে এসেছি নতুন স্টুডেন'র বাসায়। তাদের বাসা আসলেই অনেক দূর। আসবার আগে দুটো সরু গলি পেরিয়ে এলাম। গলি গুলো নিস্তব্ধ ছিল প্রায়, কিন্তু এখন বিকেল। এসময়ও কোন কিছু নিস্তব্ধ থাকে এটা ভেবেই অবাক লাগছে। যাই হোক আজ অফ ডে, ভার্সিটি অফ ছিল বিধায় আসতে পারলাম। দাদি আর আমি দুইজনেই সোফায় বসে আছি। একটা ৭ তলা ভবনের ৫ম তলায় থাকে তারা। পুরো ফ্লাট নিয়েই নাকি থাকেন। দেখে মনে হচ্ছে তারা বেশ সচ্ছল! আমাদের সামনে কিছু নাস্তা রেখে গেল একটা মেয়ে, হয়তো এখানকার কাজের মেয়ে। এটাই হবে, তার ধরন দেখে তাই মনে হচ্ছে। নাস্তা দেবার সময় সে বলে গেল, "খালাম্মা আসছে! আপনাদের চা খেতে বলেছে! বলেই সে চলে গেল। আমি আর দাদি বসে আছি। মাঝে মাঝে দাদি দু একটা কথা বলছে আর আমি মাথা নাড়ছি। এরা নাকি তার পরিচিত। খুব ভালো মানুষ তবে তাদের ছেলেটাই একটু দুষ্টু! কিছুক্ষণ পর একটা ভদ্রমহিলা এলেন। বেশ সাজগোজ করেই এলেন। তার শাড়ির আঁচল ধরে পেছন পেছনএকটা ছেলে এলো। ছেলেটা দেখতে বেশ সুন্দর! এতো সুন্দর ছেলে হয় এটা ভেবেই আমি বেশ অবাক। জানি না বড় হলে কতো সুন্দর হবে! না এসব ভাবা ঠিক না। ভদ্রমহিলা হেসে বসলেন আমাদের সামনে অতঃপর বললেন, "দাদি চা খেয়েছেন! "খেয়েছি মা! আরে দাদু মনি তুমি এসো আমার কোলে এসো! ছেলেটা হেসে দাদি'র কোলে উঠে গেল। ভারী মিষ্টি হাসি তার। দাদি বললেন, "অর্ণ কে পড়ানোর ব্যাপারে কথা বলেছিলাম না, এই হলো আমার সেই নাতনি। অনেক ভালো পড়ায়! "হ্যাঁ আমি জানি তুহিন কেও তো পড়াও তুমি! "হুম! "তুহিন তোমার ব্যাপারে অনেক প্রশংসা করেছে। তার মাও বলেছে বেশ ভালো পড়াও তুমি, কিন্তু কথা হলো আমার ছেলে যে খুব দুষ্টু। তাকে সামলানো যে আসল ব্যাপার!"তুহিন তোমার ব্যাপারে অনেক প্রশংসা করেছে। তার মাও বলেছে বেশ ভালো পড়াও তুমি, কিন্তু কথা হলো আমার ছেলে যে খুব দুষ্টু। তাকে সামলানো যে আসল ব্যাপার! আমি কিছু বলব তখন'ই অর্ণ মুখ ফুলিয়ে বলল, "মাম্মাম! এটা ঠিক না তুমি আমাকে অপমান করছো! নতুন মিস'র সামনে এসব কি বলছো তুমি! অর্ণ'র কথা বলার ভঙ্গি দেখে আমি না পেরে হেসে দিলাম। সত্যি বেশ মিষ্টি সে। অতঃপর তাকে পড়ানো ঠিক হলো। ২ দিন পর থেকে আসবো পড়াতে। তবে বাসা অনেক দূর, আসতে আসতে অন্ধকার হয়ে যাবে। কিন্তু কোনো উপায় নেই করতেই হবে। সামনেই আবার পরিক্ষা! পরিক্ষার জন্য ও টাকা লাগবে। কিছু হয়তো জমানো আছে কিন্তু সেটা দিয়ে হবে না। রাস্তা দিয়ে আমি আর দাদি হাঁটছি। গন্তব্য এখন বাসা! তখন দাদি আমাকে বলল, "কি ভাবলি পড়াবি তো! "হুম পড়াবো। "দেখ বাসা কিন্তু অনেক দূরে! "সমস্যা নেই, পারবো।"এই বয়সে অনেক ধকল করিস রে তুই মেয়ে, একটু বিশ্রামও নিস। "নেই তো দাদি আম্মা! "কোথায় নিস, একটু ভালো মতো খাওয়া দাওয়া করিস না। আমার পক্ষে ও তো সম্ভব হয় না তবুও তো তোকে বলি যেতে কিন্তু তুই! অনেক দেমাক রে মেয়ে তোর। দাদি'র কথায় আমি হেসে বলি, "আমার তো কোন মান সম্মান নেই দাদি, একটু আত্নসম্মান'ই থাকতে দাও না! দাদি আমার কথায় হেসে মাথায় হাত রাখেন! পরদিন ভার্সিটিতে.. ভয় লাগছে এটা সত্য, কিন্তু আজ নিতি'র দেখা নেই। হয়তো আজ আসে নি! মনে হচ্ছে আহিয়ান'র উপর রেগে আছে যার কারণে আজ আসে নি। কারন আজ আহিয়ান এসেছে! আমি দেখেছি তাকে, আকাশ ভাইয়া এর মাঝে এসে আমার সাথে দেখা করে গেছে। কিন্তু সেদিন কার ব্যাপারে কোন কথা বলে নি। ভালোই হয়েছে কিছু বলে নি। না বলা টাই ভালো!ক্লাস শেষ করে বাইরে বের হয়েছি। কিছুক্ষণ আগেও বেশ বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু এখন পুরো আকাশ শান্ত! স্থির, নীল, নিশ্চুপ! কেউ দেখলে বলবে না এতক্ষণ আকাশ অস্থির ছিল। রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে। আমি একপাশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করি। হুট করেই একটা গাড়ি আমার পাশ দিয়ে খুব জোরে গেল, যার ফলে রাস্তায় জমে থাকা ময়লা পানি গুলো সোজা এসে আমার গায়ে পড়ল। আমি হা হয়ে স্থির ভাবে দাড়িয়ে হয়ে গেলাম। কি হলো এটা? গাড়িটা থেমে গেল সেই আওয়াজ পেয়েছি। পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখি গাড়ির কাঁচ নিচে নামিয়ে নিতি আমাকে দেখে হাসছে। হয়তো তার সাথে টিনা আর আনিকাও আছে। নিতি গাড়ি আবারো ব্যাক করে আমার সামনে এসে বলল, "ইশ! পুরো জামা নষ্ট হয়ে গেল তোমার। কাঁদা, ময়লা পানি ছিটে বিচ্ছিরি অবস্থা! নাহলে আমার গাড়িতে করে লিফট দিতাম তোমায়! ওপাশ থেকে টিনা বলল, "ওকে কিছু টাকা দিয়ে দে, নতুন জামা কিনে নেবে! "ঠিক বলেছিস!
Tags

