Type Here to Get Search Results !

ভালোবাসা ফোড়ন সিজন ২,পর্ব ২৫


 ওপাশ থেকে টিনা বলল, "ওকে কিছু টাকা দিয়ে দে, নতুন জামা কিনে নেবে! "ঠিক বলেছিস! অতঃপর নিতি হেসে আমার দিকে কিছু টাকা ছুড়ে মারল। আমি চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আনিকা হেসে বলল, "হায়রে বেচারি! নিতি গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল, "তোমার যোগ্যতা এটা অবদি, যোগ্যতার বাইরে কিছু করতে গেলে মুখ থুবড়ে পড়বে। তখন অবস্থা এর চেয়েও খারাপ হবে! বলেই তারা চলে গেল। নিঃশব্দে চোখ থেকে নোনা জল গড়িয়ে পরল। ইচ্ছে করছিল কিছু বলতে কিন্তু বললে যদি এর থেকেও খারাপ কিছু করে তখন.. সব কিছু না ভেবে কথা বললে পরিনাম ভয়াবহ হবে। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি টাকা গুলো উড়ছে। হাজার টাকার নোট! মানুষের ভাগ্য কি ভয়াবহ, আমি টাকার জন্য এতো কষ্ট করি আর তারা সেই টাকা মানুষের দিকে ছুঁড়ে মারে। টাকার কোন দাম নেই তাদের কাছে। কিন্তু এই টাকা আমি নিতে পারি না। আর এভাবে রাস্তায় ও ফেলে দিতে পারি না, তাহলে যে টাকার অপমান হবে।চোখ খুলতে পারছি না, মাথায় অসহ্য ব্যাথা করছে। চোখ দুটো জ্বলছে। ঝাপসা ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখি দাদি আমার পাশে বসা। হাত বুলাচ্ছে আমার মাথায়। মাথায় হয়তো জল পট্টি দেওয়া। যা ভাবলাম তাই, জ্বর এসেছে আমার। পাশ থেকে দাদা'র গলার আওয়াজ পেলাম। তিনি বলছেন, "দাদু ভাই এখন কেমন লাগছে! "আমি ঠিক আছি দাদু ভাই! "মরন! কিসের ঠিক রে তুই ছেমড়ি। ১০২ ড্রিগ্রি জ্বর তোর জানিস। কিভাবে বাধালি এই অসুখ লা। রিনু'র মা আমাকে ফোন না করে বললে আমি তো কিছুই জানতে পারতাম না। পরে একা ঘরে মরে পরে থাকতি! আমি হেসে উঠে বসলাম। বলে উঠি, "মরে একা পড়ে থাকলে কি হতো, মরার পর তো তোমরা এসে আমার জন্য দোয়া পড়তে। আশপাশ থেকে অনেক মানুষ আসতো তখন কি আর একা থাকতাম! "ছেমড়ির কথা শুনেছো তুমি!"দাদু ভাই, উঠছো কেন তুমি। শুয়ে থাকো তোমার শরীর ভালো না। "আমি ঠিক আছি দাদু ভাই! "মরন! বুড়ো টা কিভাবে কথা বলছে দেখ। একটু ধমক দিতে পারো না। বলতে পারো না ডাক্তার বলে গেছে ওকে শুয়ে থাকতে। আর তুমি ঔষধ এনেছো। আনলে ঘর থেকে চারটে ভাত নিয়ে আসো। তোমার দাদু ভাই কে খাইয়ে উদ্ধার করো আমায়। আমি হেসে উঠি, দাদি রাগ আর ভালোবাসা দুটোই দেখাচ্ছে আমাকে। মা বাবার পর প্রথমবার এতো ভালোবাসা পেলাম কারো কাছে। আমার দাদা দাদী খুব ছোট বেলায় মারা গেছে। আর মা তো ছিল অনাথ। তবে বড় মা'র মা বাবা ছিল কিন্তু তারা কখনো আদর করে নি আমায়। এখনো মনে আছে, আমি একবার নানু বাড়ি গিয়েছিলাম বাবা'র সাথে। তখন নানু অনেক বাজে ভাষায় গালিগালাজ করেছিল আমায়। আমার মরা মাকেও ছাড়ে নি। এরপর বাবা আর কখনো তাদের বাসায় নিয়ে যায় নি আমাকে। আর আমি ও যাবারসাহস করে নি। যখন তারা আসতো আমাদের বাসায় আমি সবসময় তাদের থেকে দূরে থাকতাম। চলে যেতাম বাবা'র কাছে আর রাতে তার সাথেই বাড়ি ফিরতাম! কিন্তু এরা, এরা দুজন খুব ভালোবাসে আমায়। আমাকে চিনে না জানে না তবুও কতো ভালোবাসে আমায়। আগলে রাখে নিজের কাছে। জানি না এভাবে আর কখনো কেউ ভালোবাসবে কি না আমায়। জ্বরে ৩ দিন ভুগলাম। মিতু আপু রাতে আমাকে আগলে রাখতো আর দাদা দাদি দিনে। এভাবেই ৩ দিন কাটল। ইতি আমার বাসার ঠিকানা জানে না, নাহলে নিশ্চিত আসতো আমাকে দেখতে! নতুন টিউশনিতে যাবার কথা ছিল গতকাল থেকে। জ্বরের কারনে যাওয়া হয় নি। দাদি সবাইকে ফোন করে বলে দিয়েছে আমার জ্বর তাই আসতে পারি নি। কিন্তু এভাবে তো আর চলে না। ঘরে কিছু নেই, এতোদিন দাদি'ই আমাকে খাইছে কিন্তু এভাবে কি আর চলা যায়। আজ বের হলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। ইতি আমাকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিল। শরীর এখনো বেশ দুর্বল আমার। মুখ চোখ সব শুকিয়ে গেছে। আমি ইতি'র

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.