মৃত__ভার্সিটি(পর্ব-০৫)
"তিয়াস ক্লাসে চল।এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?"
নোহার কথায় তিয়াসের ধ্যান ভাঙ্গলো।তিয়াস নোহার দিকে টলমল চোখে তাকালো।তিয়াসের চোখে পানি দেখে নোহা বিচলিত হয়ে আওড়াল,
-"তিয়াস তোর চোখে পানি কেন কি হয়েছে বল?"
নোহার কথায় তিয়াস ভীতু গলায় বলতে লাগলো,
-"কাল রাতে শোয়ার আগে ওয়াশরুমের মুখ ধুতে গিয়েছিলাম।পানির ট্যাপ ছেড়ে দেখি পানির বদলে রক্ত পড়ছে।আমি প্রথম না দেখেই হাত দিয়ে ফেলি। হাত জ্বালা করতে শুরু করেছে দেখে সামনে তাকিয়ে দেখি পানির বদলে ট্যাপ থেকে রক্ত বের হচ্ছে।"
তিয়াসের কথায় নোহা ভয় পেল।তখন সবাই এসে উপস্থিত হলো।জীবন বলে উঠলো,
-"চল সবাই ক্লাসে।"
-"সব কিছুই জানি।এখন যা কিছুই হয়ে যাক কেউ আলাদা হবো না।ক্লাসে সবাই একসাথে বসবো।"__মৃন্ময় বললো।
-"ওকে।"
সবাই একে একে ক্লাসে প্রবেশ করলো।সবার দিকে চোখ পড়তেই ছয়জনের শরীর কেমন শিউরে উঠলো।সবার চোখের নিচে কালি জমে আছে।সবাই অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।আচমকা সারার মাঝের সারির টেবিলের দিকে চোখ পড়লো।সেদিকে তাকিয়ে সে মনে মনে আওড়াল,
-"আরে এটা তো ওই মেয়েটা।মেয়েটা কাল আমায় কিছু বলতে চেয়েছে।"
মেয়েটিরও সারার দিকে চোখ পড়লো।মেয়েটি চোখের ইশারায় কিছু ইঙ্গিত করলো সারাকে।মেয়েটির পাশের মেয়েটা মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটি মাথা নিচু করে ফেললো।সারা দ্রুত মাথা ঘুরিয়ে নিল।তারপর সবাই একসাথে পাশাপাশি টেবিলে বসলো।পিয়াস স্যার ক্লাসে আসতেই সবাই দাঁড়িয়ে পড়লো।
-"বসো সবাই।"__পিয়াস গম্ভীর কণ্ঠে বললো।
পিয়াস স্যার ক্লাস করা শুরু করলো। সবাই মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করছে।তীরের হঠাৎ মনে হলো তার পা ধরে কেউ টানছে।ভয়ে তীরের পুরো শরীর ঘামতে শুরু করলো।তীর মাথাটা হালকা নিচু করতেই দেখে একটা লম্বা হাত তার পা ধরে টানছে।সহসা তীর চিৎকার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।তীরের চিৎকারে সবাই তীরের দিকে তাকালো।পিয়াস স্যার বিরক্ত হয়ে বললো,
-'সমস্যা কি তোমার ক্লাসের মাঝে এভাবে চেঁচাচ্ছো কেন?'
তীর কিছু বলতেই যাবে সারা চোখ দিয়ে ইশারা করলো কিছু না বলতে।তীর নিজেকে সামলে কোনোরকমে বললো,
-"কিছু না স্যার।"
-"কিছু না হলে এভাবে চিৎকার দিলে কেন তুমি?"
-"স্যার টেবিলের নিচে একটা তেলাপোকা দেখেছিলাম।তেলাপোকা দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়েছি স্যার।স্যরি স্যার।"__তীর মাথা নিচু করে শুকনো ঢোক গিলে আওড়াল।
-"এমন ভুল যেন আর না হয়।"__পিয়াস গম্ভীর কণ্ঠে বললো।
-"জ্বি স্যার।"__তীর মাথা নিচু করে জবাব দিল।
সবাই আড়ঁচোখ তীরের দিকে তাকাচ্ছে।তীর মাথা নিচু করে বসে আছে।ভয়ে কারোর দিকে তাকাচ্ছে না।সারা ক্লাস করতে করতে খেয়াল করলো একটা মেয়ের চোখ মাথার পিছনে।সারার তো ভয়ে অবস্থা খারাপ।সারার ইচ্ছে করছে ক্লাস থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে।সারা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত মনে আওড়াল,
-"চোখ সামনে না থেকে পিছনে কেন?খুব ভয় লাগছে আমার।এখান থেকে কি করে বের হবো আমরা?"
সারার কি হলো সারা নিজেও জানে না।সারা বেঞ্চ থেকে উঠে পা টিপে টিপে ক্লাস থেকে বের হতে নিবে তার আগেই পিছন থেকে পিয়াস ধমক দিয়ে বলে উঠলো,
-"পালিয়ে যাচ্ছো কোথায় সারা?"
সারা ভয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। স্যারের ধমকে সারা বলে উঠলো,
-"স্যার ওই মেয়েটার চোখ মাথার পেছনে কেন?"
বলেই সারা নিজের হাত মুখে চেপে ধরলো।ভয়ের চোটে কথাটি বলে ফেলেছে সে।সারার কথায় পাঁচ জন দাঁড়িয়ে পড়লো।সবাই ভীতু চোখে সারার দিকে তাকালো।হঠাৎ করেই ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করলো তারা ছয়জন ছাড়া।বাকি পাঁচ জন দৌঁড়ে এসে সারার সাথে দাঁড়ালো।পর পর মৃন্ময় ভয়ার্ত গলায় বললো,
-"তুই এটা কি করলি সারা?"
-"আমি ইচ্ছে করে করিনি হঠাৎ করেই মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।"__সারা।
-"এখন কি হবে আমাদের।এরা তো সবাই অন্য জগতের।কেউই মানুষ নয়।"__তীর।
-'আত্মা।"__নোহা ভীতু গলায় বললো।
-"হুমম।"__জীবন।
আর দাঁড়ালো না ক্লাসে।তারা ছয়জন দরজা ঠেলে ক্লাস থেকে দৌঁড়ে বেরিয়ে ভার্সিটির মেন গেটের সামনে আসলো।এসে দেখলো গেট লক করা।হঠাৎ ভার্সিটির গেটের সামনের দিক নিজে নিজে তাদের দিকে ফিরলো।ওপরে তাকাতেই সবার জান যায় যায় অবস্থা। বড় বড় অক্ষরে সেখানে লেখা,
-"মৃত বিশ্ববিদ্যালয়।"
-"মৃত বিশ্ববিদ্যালয়।এটা কি করে সম্ভব।এটা তো নাম ছিল না।কি যেনো একটা নাম ছিল মনে পড়ছে না আমার।তোদের কারোর মনে আছে।"__জীবন নাম দেখে ভয়ার্ত গলায় বললো।
-"না আমাদেরও কারোর মনে পড়ছে না।"
-"এখন কি হবে।এখান থেকে বের হবো কি করে।আমারা সবাই তো মরে যাব।"__সারা কান্নারত গলায় বললো।বলে কাঁদতে লাগলো সারা।ভয়ে তার তনু কাঁপছে।তীর এগিয়ে এসে সারাকে ধরে বললো,
-'কান্না করিস না সারা।কোনো পথ তো আছে এখান বের হবার।'
তীরের কথায় সহসা পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো,
-"একটাই পথ আছে।"
সবাই পিছনে ফিরলো সেই গা হিম করা কন্ঠস্বর শুনে।পিয়াস স্যার হেসে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।পিয়াস স্যারের পেছনে ভার্সিটির সব স্টুডেন্ট দাঁড়িয়ে আছে।আচমকা তারা সব স্টুডেন্টরা ভ"য়ং"ক"র ভাবে হাসতে হাসতে একসাথে বলে উঠলো,
-"মৃত্যু।মৃত্যু।মৃত্যু ই তোমাদের মুক্তির পথ দেখাবে।"
