Type Here to Get Search Results !

মৃত _ভার্সিটি (পর্ব _৪)


 মৃত__ভার্সিটি (পর্ব-০৪)



রাত দুইটা পঁচিশ মিনিট,

কিছুর শব্দে মৃন্ময় এর ঘুম ভেঙ্গে গেল।শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে গেল তার।পর পর ভয়ার্ত গলায় সে বললো,

-"এতো রাতে এইরকম অদ্ভুত শব্দ কোথা থেকে আসছে।"

মৃন্ময় শোয়া থেকে উঠে জানালা খুললো।জানালা খুলতেই লবিতে চোখ পড়লো মৃন্ময়ের।একটা মেয়ে বসে বসে কান্না করছে।মেয়েটার চুলগুলো মুখের ওপর পড়ে থাকায় মুখ বুঝা যাচ্ছে না।কান্নার শব্দও কেমন অদ্ভুত ধরনের।শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায় মৃন্ময় এর।আবার মৃন্ময় বললো,

-"নিচে গিয়ে ই দেখি।হয়তো মেয়েটার কোনো সমস্যা হয়েছে।কিন্তু এতো রাতে মেয়েটা ওখানে বসে কান্না করছে কেন?"

বলে মৃন্ময় জ্যাকেটটা গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।


মৃন্ময় লবিতে এসে দেখে মেয়েটা আগের মতো ই কান্না করে যাচ্ছে।তবে কান্নার বেগ এখন আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।মৃন্ময়ের একটু ভয় লাগলো মেয়েটাকে এভাবে কাঁদতে দেখে।পরক্ষণে সাহস জুগিয়ে মৃন্ময় পেছন থেকে আওড়াল,

-"এ্যাই মেয়ে এতো রাতে এখানে বসে কান্না করছো কেন?"

মেয়েটা মৃন্ময় এর কথার জবাব দিল না।আগের মতোন ই মেয়েটা কান্না করেই যাচ্ছে।মেয়েটাকে কথা শুনতে না দেখে মৃন্ময় কাঁপা কাঁপা হাতটা মেয়েটির কাঁধে রাখতেই যাবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো,

-"মৃন্ময় তুই এতো রাতে এখানে কি করছিস?"

মৃন্ময় তড়িত পেছনে তাকিয়ে দেখে সারা দাঁড়িয়ে আছে।সারাকে দেখে মৃন্ময় কাঁপা গলায় বললো,

-"আমি তো এই মেয়েটাকে কান্না করতে দেখে এখানে এসেছি।" 

বলে মৃন্ময় পিছনে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি উধাও।মৃন্ময় শকট হয়ে গেল।এদিকে মৃন্ময় এর কথায় সারা বিস্মিত হয়ে আওড়ায়,

-"কিন্তু এখানে তো কোনো মেয়ে দেখতে পাচ্ছি না আমি।"

সারার কথায় শুকনো ঢোক গিলে পর পর মৃন্ময় 

বিচলিত হয়ে বললো,

-"সারা বিশ্বাস কর আমায়।এখানে একটা মেয়ে বসে কান্না করছিলো।তবে মেয়েটার কান্নার শব্দটা বেশ অদ্ভুত ধরনের ছিল।সাধারণত মেয়েদের কান্নার শব্দ এমন হয় না।মেয়েটা কেন কান্না করছিল নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে নিচে চলে আসলাম।তারপর...."


বলে মৃন্ময় চুপ হয়ে গেল।সারা কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকার পর বললো,

-"আমি তোর কথা বিশ্বাস করলাম মৃন্ময়।এমন কিছু আমার সাথেও হয়েছে।তবে অন্যরকম ভাবে।"

-"কি হয়েছে তোর সাথে?" 

তারপর সারা তার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বললো মৃন্ময়কে।বলা শেষে পুনরায় বললো,

-"আমার না এখানের কাউকেই স্বাভাবিক লাগছে না।সবাইকে কেমন অদ্ভুত লাগছে।সাধারণ মানুষের চলাফেরা তো এমন হয় না মৃন্ময়।"

-"হুমম।কিন্তু তুই এখানে কেন আসলি?"

-"আমার হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়।তাই উঠে বাহিরের হাওয়া খাওয়ার জন্য জানালা খুললাম।জানালা খুলতেই দেখি তুই নিচে দাঁড়িয়ে সামনে হাত এগোচ্ছিস।কিন্তু সামনে আমি কাউকেই দেখলাম না।এসব দেখেই নিচে তোর কাছে আসলাম।"

-"ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে সারা।এটা আসলে কোনো ভার্সিটি তো।নাকি অন্যকিছু।আমাদের সবার ওপর নজর রাখতে হবে।বাকিদেরও বুঝিয়ে বলতে হবে ব্যাপারটা।"

-"বাকিরা যদি আমাদের কথা বিশ্বাস না করে তাহলে?"

-"দেখা যাক কি করা যায়।এখন গিয়ে শুয়ে পড়।সকালে ভেবে দেখব।"

-"ঠিক আছে।তুই ও গিয়ে শুয়ে পড়।গুড নাইট।"

বলে যে যার রুমে চলে গেল।


_____


'হ্যালো কে বলছেন? কথা বলুন।'(তীর)


ওপাশ থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠ বলে উঠলো ,,,,, 


'ছাঁদে আসো দ্রুত তোমার বন্ধুরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য।'


তীর ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো।


'এতো রাতে ছাঁদে কিসের সারপ্রাইজ দিবে ফাজিলগুলো।আমার ঘুমটাই বরবাদ করে দিল।'(তীর)


তীর রুম থেকে বের হয়ে ছাঁদে চলে আসলো।


...........

ছাঁদে,


-"কিরে তোরা কোথায়?"

কারো কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তীর খুব বিরক্ত হলো।তারপর তীর রেগে বললো,

-"এতো রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে এইভাবে ফাজলামো করার কোনো মানে কি।তোরা কি সাড়া দিবি নাকি আমি চলে যাব।"

কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। তীর চলে যেতেই নিবে তখন পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো,

-"তোমায় আমি ডেকেছি।"

এমন অদ্ভুত কন্ঠ শুনে তীরের গায়ের পরশ দাঁড়িয়ে যায়।তীর ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকালো।পিছনে তাকাতেই তীর আরো বেশি ভয় পেল।একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চুলগুলো উসকোখুসকো।চোখের নিচে কালি জমে আছে।নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।তীরের পুরো শরীর কাঁপা শুরু করলো এসব দেখে।তীর দৌঁড়ে চলে যেতে নিয়ে থেমে গেল।পাশে তাকাতেই দেখে নোহা ছাঁদের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে।আর এক পা দিলেই পড়ে যাবে নিচে।এত ওপর থেকে নিচে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত।তীর তখন চিৎকার করে নোহাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

-"নোহা পা আগে বাড়াবি না।নো নোহা নো।এখান থেকে পড়লে তুই মরে যাবি নোহা।"

নোহা ছাঁদ থেকে লাফ দিল।তীর দৌঁড়ে সেখানে আসলো।পর মুহূর্তে পিছন থেকে কেউ টেনে তীরকে সরিয়ে নিয়ে আসলো।তীর তখনো চোখ বন্ধ করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,

-"ছাড়ো আমায় নোহা নোহা পড়ে গেছে।"


-"আরে পাগলী আমি তো তোর সাথেই আছি।"

কথাটা কানে আসতেই তীর দ্রুত চোখ খুললো।তীর আশ্চর্য হয়ে গেল নোহাকে তার সামনে দেখে।পর পর তীর অস্হির গলায় বললো,

-"নোহা তুই তো ঝাঁপ দিয়েছিলি এখান থেকে।আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস কিভাবে?তুই তো ,,,,,,"

-"আমি পড়িনি।তুই পড়ে যাচ্ছিলি দেখে আমি দৌঁড়ে এসে তোকে সরিয়ে নিয়ে আসলাম।"

-"কিন্তু আমি তো দেখলাম তুই পড়ে গেলি।আর ওই ওই মেয়েটা কোথায়?"

বলে তীর এদিকওদিক তাকাতে লাগলো।তীরকে এমন করতে দেখে নোহা চিন্তিত হয়ে বলে উঠলো,

-"কোন মেয়ে তীর? এখানে আমি আর তুই ছাড়া কেউ নেই।আর তুই এতো রাতে এখানে কি করছিস?"

-"রুমে চল তারপর সব বলছি তোকে।এখানে আমার কিছু ঠিক লাগছে না।চল নোহা।"

তীর নোহার হাত ধরে বললো।নোহাও তীরের হাত ধরে বললো,

-"ওকে।"


এরপর তীরের কক্ষে আসলো নোহা।খাটে বসতে বসতে নোহা বললো,

-"এখন বল তুই ছাঁদে কি করছিলি?"

তীর সব খুলে বললো ছাঁদে কেন গিয়েছিল সে।নোহা তীরের কথাগুলো শুনে বিস্মিত হয়ে আওড়াল,

-"না তীর আমরা তো ঘুমাচ্ছিলাম।আমরা তোকে ছাঁদে ডাকিনি তো।"

-"হুমম।কন্ঠটা অনেক অদ্ভুত ছিল।কন্ঠটার ভিতর ভূতুড়ে ভাব ছিল।জানিস নোহা আমার না এখানের সবকিছু কেমন লাগছে।মনে হচ্ছে এখানের কোনো কিছুই ঠিক নেই।"

-"আচ্ছা এখন ঘুমাবি চল।সকালে সবাই মিলে একটা ডিসিশন নিব কি করা যায়।"

-"হুমম।"


Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.