Type Here to Get Search Results !

মৃত_ভার্সিটি (সমাপ্তি পর্ব)


 

মৃত_ভার্সিটি (শেষ পর্ব) 


সবাই দৌঁড়ে গেট ধাক্কানো শুরু করলো।কিন্তু কোনো কাজ হলো না গেট খুলছে না।সারা নোহা তো ভয়ে কাঁদতে লাগলো।

-"ভয় পাস না।কোনো পথ তো অবশ্যই আছে বের হওয়ার।"__তীর।

-"হ্যাঁ।তীর ঠিক বলেছে।ভয় পাস না কেউ।"__ওদের ভয় পেতে দেখে জীবন তাল মিলালো তীরের সঙ্গে।


সবাই তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।তারা কি করবে বুঝতে পারছে না।কিছু স্টুডেন্ট উড়ে উড়ে তাদের কাছে আসতে গেলে ছয়জন দ্রুত সরে যায়।তাদের এহেন আক্রমণে তীর এবার ভয় পেল।কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো,

-"প্লিজ আমাদের যেতে দেও।আমরা তো তোমাদের কোনো ক্ষতি করিনি আমাদের সাথে কেন এমন করছো তোমরা?"

-"সবাই দৌঁড়া।"__মৃন্ময় বলে উঠলো।

-"এরা তো আত্মা।এদের সাথে দৌঁড়িয়ে কি হবে।ওরা তো আমাদের এমনিতেই ধরে নিবে।"__জীবন।


সহসা একটা স্টুডেন্ট এসে তীরের হাত ধরে ফেললো।তীর চিৎকার দেওয়ার আগেই মেয়েটি তীরের গলা টিপে ধরে।তীরের নিঃশ্বাস আঁটকে যাচ্ছে।চোখ দু'টো যেন বের হয়ে যাবে এমন অবস্থা।জীবন এসে মেয়েটিকে পিছন থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে।মেয়েটি ক্ষেপে নিজের অন্য হাতটা বড় করে জীবনকে শূন্যে উঠিয়ে ফেলে।উপরে উঠিয়ে সহসা নিচে ফেলে দিল তাকে।জীবন প্রচন্ড ব্যাথা পেল মাথায় আর কোমরে।যন্ত্রণায় চিৎকার দিয়ে উঠলো জীবন।একে একে সব স্টুডেন্ট তাদের আক্রমণ করতে এগিয়ে আসছে।এই অবস্থায় সহসা সারার চোখ পড়লো সেই মেয়েটার দিকে।মেয়েটি হাত দিয়ে ডান দিকটায় ইশারা করলো।সারা ওইদিকে তাকালো।একটা রুম থেকে হলুদ রশ্মি বের হচ্ছে।ওদিকে তাকিয়ে সারা বলে,

-"মেয়েটা কি রুমটাতে যাওয়ার জন্য ইঙ্গিত করলো।"

-"কোন রুম?"__মৃন্ময়।

-"ডান দিকটায় তাকা।"__সারা।

-"তাই হবে।তুই যে মেয়েটার কথা বললি ওটা সেই মেয়ে না যে আমাদের সাহায্য করতে চাইছে।"__তিয়াস।

-"হ্যাঁ।কিন্তু জীবন আর তীর তো ব্যাথা পেয়েছে ওদের কি করে নিয়ে যাবে।যত দ্রুত সম্ভব আমাদের রুমটিতে প্রবেশ করতে হবে।"__সারা।

-"ও দু'টোকে টেনেটুনে নিয়ে যাব।"__তিয়াস।

সেই মেয়েটি নসময়ের জন্য সবাইকে আঁটকে রাখবে।মেয়েটি ওদের বলে উঠলো,

-"তোমরা দ্রুত সবাই রুমটিতে যাও।বেশিক্ষণ কাজ করবে না আমার শক্তি।তারা অনেক শক্তিশালী।"


তিয়াস তীরকে কোলে তুলে নিল।মৃন্ময়-সারা দু'জন জীবনকে টেনেটুনে নিয়ে আসলো রুমটির সামনে।মেয়েটি রুমের তালা খুলে দিয়ে উধাও হয়ে গেল। সবাই রুমটিতে ডুকে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিল।এদিকে সবগুলো আত্মা আবার আগের মতো হয়ে গেল।তাদের এতক্ষণ বরফে পরিনত করে রেখেছিল সেই মেয়েটি।এদিকে তীরদের না দেখতে পেয়ে তারা সবাই রেগে গেল।পিয়াস স্যার ভ"য়ং"ক"র গলায় বলে উঠলো,

-"কে করলো এমনটা।তোমাদের মধ্যে কে তাদের সাহায্য করলো।তাকে বোতল বন্দী করে রাখব আমি।"

এই কথা শুনে সেই মেয়েটি ভয় পেয়ে গেল।মেয়েটি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।কিছু স্টুডেন্ট বললো,

-"স্যার আমরা কেউ কিছু করিনি সত্যি বলছি।'

-"তাহলে কে করলো....আর ওরা রুমটিতে প্রবেশ করেছে এখন আমরা ওই রুমে যেতে পারবো না।ওই রুমটাতে রক্ষাকবচ আছে।আমরা কিছুতেই রুমটিতে প্রবেশ করতে পারব না।"__পিয়াস স্যার।

-"তাহলে কি ওদের আমাদের সাথী বানাতে পারব না স্যার?"

একটা মেয়ে মন খারাপ করে বললো। 

-"ভাবতে দাও।"__পিয়াস স্যার।

#ফিহা__আহমেদ(লেখনীতে)

..........

-"এখান থেকে কিভাবে বের হবো আমরা?আমার খুব ভয় লাগছে নোহা।"__সারা।

-"ওই আলমারিটা দেখ কিছু একটা আছে ওইখানে।কেমন হলুদ আলো বের হচ্ছে।"__তিয়াস।

-"হ্যাঁ।তাই তো।চল গিয়ে দেখা যাক।"__মৃন্ময়।

তীর আর জীবন নিচে বসে আছে।তারা দু'জন মোটামুটি ভালোই ব্যাথা পেয়েছে।তারা চারজন এসে আলমারি খুললো।আলমারিতে একটা বই দেখতে পেল তারা।বইটা থেকে হলুদ রঙের আলো বের হচ্ছে।

মৃন্ময় বইটি হাতে নিল। বইটি খুলতেই বইটি মৃন্ময়ের হাত থেকে সরে হাওয়ায় ভাসতে লাগলো।বইয়ের পাতাগুলো নিজ থেকেই উল্টানো শুরু করলো।সবাই আশ্চর্য হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো।তারপর বইটির দিকে তাকালো।পৃষ্ঠায় দেখলো,


               ['ভ্রোমর বিশ্ববিদ্যালয়।সালটি ছিল ১৯৯৮।সেদিন ভার্সিটিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল।সব স্টুডেন্টরা সেজেগুজে এসেছিল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।কিয়ৎক্ষণ পর অনুষ্ঠান শুরু হলো।সকল স্টুডেন্ট টিচাররা সেখানেই উপস্থিত ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ে রান্নার জন্য আলাদা রুম ছিল।সেদিন রন্ধনশালায় যে শেপটি রান্না করতো সেই শেপটির একটা কাজ পড়ায় রান্না রেখে বাহিরে চলে যায়।আসতে অনেক দেরি হয়ে গেল শেপটির।রান্না করা সবজি পুড়তে পুড়তে রান্নার পাত্রও পর্যন্ত পুড়ে গেল। সাথে রন্ধনশালায়ও আগুন লেগে গেল।সেই আগুনে পুড়ে মরলো শেপটি।তারপর সেই আগুন ধীরে ধীরে সমগ্র ভার্সিটিতে ছড়িয়ে পড়লো।যারা বের হতে পেরেছে তারা বেঁচে গেছে।যারা পারেনি তাদের মৃত্যু হয়েছে।তারা চিৎকার করে মানুষদের কাছে অনেক সাহায্য চেয়েছে কেউ তাদের সাহায্য করতে আসেনি।

সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটা সময় পুড়ে যায়।তারা সবাই মৃত্যুর পর আত্মা হয়ে যায়।তারপর থেকে যারা এখান দিয়ে আসতো বা যেত তাদেরকে আত্মাগুলো বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে এনে মেরে ফেলতো।তারপর থেকে সবাই ভ্রোমর বিশ্ববিদ্যালয়কে মৃত ভার্সটি/বিশ্ববিদ্যালয় বলতো।একসময় এখানে বসবাসরত মানুষগুলোও ভয়ে চলে এখান যায়।সবাইকে চলে যেতে দেখে আত্নাগুলো তখন অন্যভাবে মারার কৌশল বের করলো।


প্রত্যেক বছর স্টুডেন্টদের ভর্তির সময় হলে ২০১ নাম্বারে কল করে তারা। যারা রিসিভ করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসে।তারপর মেরে ফেলে তাদের।এখান থেকে বের হওয়ার জন্য একটা ম্যাজিকেল স্পেল রয়েছে এই স্পেলটা পড়লে সব আত্মারা এক ঘন্টার জন্য আঁটকে থাকবে।যে যেভাবে থাকবে সেই অবস্থায় আটঁকে থাকবে।এক ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরপরই তারা সবাই আগের মতোন হয়ে যাবে।তারপর এসে মেরে ফেলবে।এই এক ঘন্টার মধ্যে সেই বটগাছটা পেরোতে পারলে বেঁচে যাবে।তারপর সেই পাতাটি সামনে আসলো যেখানে লেখা ছিল ম্যাজিকেল স্পেলটি।']


এসব পড়ার পর নোহা বলে উঠলো,

-"আচ্ছা তোদের কারোর কাছে ২০১ নাম্বার থেকে কল এসেছিল?"__নোহা।

-"আমার কাছে এসেছিল।"__তীর আর জীবন একসাথে কথাটি বললো।

-"তোরা আগে বললি না কেন আমাদের এই কথা। তোদের পাল্লায় পড়ে আজ জীবন-মৃত্যু নিয়ে টানাটানি পড়ে গেছে।"__মৃন্ময় কিঞ্চিৎ রেগে বললো।

-"ওরা এতো এতো সুবিধা দিবে বলেছে তাই আর মানা করতে পারলাম না।"__জীবন।

-"আচ্ছা বাদ দে যা হবার হয়ে গেছে।এখন এখান থেকে বের হতে পারলেই বাঁচি।"__সারা।

এরপর মৃন্ময় বললো,

-"টাইম ধর সবাই আমি ম্যাজিকেল স্পেলটি পাঠ করছি।"

সবাই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,

-"ওকে পড়।"

মৃন্ময় স্পেলটি পড়লো।পড়ার পরপরই সবাই দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে গেল।বেরোতেই দেখলো আত্মাগুলো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।স্পেলটি সবাইকে আঁটকে দিয়েছে।দ্রুত তারা সবাই গাড়িতে উঠে বসলো।তিয়াস গাড়ির ডোর বন্ধ করতে করতে ভয়ার্ত গলায় আওড়াল,

-"মৃন্ময় দ্রুত গাড়ি চালা।সময় আর পঞ্চান্ন মিনিট।যখন আমরা এসেছিলাম তখন দু'ঘন্টা সময় লেগেছিল।দ্রুত ড্রাইভ কর ভাই।"

মৃন্ময় দ্রুত ড্রাইভ করা শুরু করলো গাড়ি।অনেকক্ষণ গাড়ি চালানোর পর শোনা গেল সারার গলা।

-"মৃন্ময় আর মাত্র দশ মিনিট।যদি তার আগে সময় শেষ হয়ে যায় আমরা সবাই আঁটকে যাব।তারা সবাই আমাদের মেরে ফেলবে।আরো দ্রুত ভাই।"

-"ভয় পাস না কেউ। আমাদের কিছু হবে না।আমরা সবাই বাঁচব।"__মৃন্ময় সবাইকে সাহস দেওয়ার জন্য বললো।


কিয়ৎক্ষণ পর, তীর হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে ঘনঘন শ্বাস নিতে নিতে বললো,

-"আর দশ সেকেন্ড।"__তীর।

সবার শরীর কাঁপছে ভয়ে।জীবন তখন বললো,

-"ও...ওই তো বটগাছের কাছে গাড়ি চলে এসেছি আমরা।কিন্তু গাড়ি আর এগোচ্ছে না কেন।বাঁচতে চাস তো সবাই গাড়ির দরজা খুলে সামনে ঝাপ দে।"__জীবন চিৎকার করে বললো।

জীবনের বলা শেষ হতেই সবাই শেষ চেষ্টা করলো।সবাই দরজা খুলে সামনে ঝাঁপ দিল।গড়ানি খেয়ে

বটগাছ পেরিয়ে চলে এসেছে সবাই।ওদিকে গাড়িটা দূরে গিয়ে ছিটকে পড়লো।তারপর গাড়িতে আগুন লেগে গেল।সবাই হালকা পাতলা ব্যাথা পেয়েছে কোমরে,হাতে আর পায়ে।কিন্তু তাতে কি সবাই তো বাঁচলো।তখন সবাই খুশি হয়ে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরলো।সবাই বসা থেকে উঠে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা শুরু করলো সামনের দিকে।কয়েক হাত হেঁটে সারা থেমে গিয়ে পিছনে ফিরলো।দেখতে পেল সেই মেয়েটাকে।বটগাছের নিচে মেয়েটা দাঁড়িয়ে তাদের দেখছে।সারা মেয়েটিকে কিছুপল দেখে নিয়ে মৃদু হেসে সম্মুখে পা বাড়ালো।মনে মনে ধন্যবাদ দিল মেয়েটাকে।কিন্তু একটা প্রশ্ন ঠিকই রয়ে গেল।মেয়েটা কে ছিল?আর কেন ই বা মেয়েটা তাদের সাহায্য করলো?


                      _______ সমাপ্ত ______

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.